https://www.a1news24.com
১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১২:০০

এবারও জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি আমেরিকা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে সরাসরি যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে সশরীরে অংশ নিতে পারছেন না তিনি।

একই সঙ্গে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফপির কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করা একটি সূত্র মাহমুদ আব্বাসের ভিসা না পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরও একই কারণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। পরে সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের ভিত্তিতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কিছু কর্মকাণ্ড ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, পিএলও ও পিএ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় থাকা কিছু প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মকাণ্ডের কথাও এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে না গিয়ে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর শামিল।এ ছাড়া পিএলও ও পিএর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করার’ অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগের অধিবেশনের সময়ও পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়া হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে আগে দেয়া ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল।

তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তরসংক্রান্ত চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের জন্য কিছু ব্যতিক্রমী সুযোগ ছিল। এরপরও মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে সশরীরে অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি। পরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য দেন তিনি।

এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে আনাদোলুর পক্ষ থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মাহমুদ আব্বাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি কী।

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে দেয়া এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে প্রতিটি ভিসা সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

চাকনের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তার দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে কিংবা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরো..