সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, ফরিদপুরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন-২০২৭ ও ওরশ উপলক্ষে তিস্তা নদীর সড়ক সেতু এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। পতাকা ও নানা রঙের কাগজের সাজসজ্জায় সজ্জিত ভুঁড়াটি দেখতে তিস্তা নদীর পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় পুরো এলাকা আনন্দ-উৎসবের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়াটি সেখানে এসে অবস্থান নেয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুঁড়াটিকে ঘিরে আশেকানদের জিকির-আজকার ও ধর্মীয় কার্যক্রম চলে। ভুঁড়াটি অবস্থানকালে কাউনিয়া ও লালমনিরহাট এলাকার আশেকানরা তাঁদের সাধ্যমতো নজরানা প্রদান করেন। সন্ধ্যায় দোয়া শেষে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ভুঁড়াটি যাত্রা শুরু করে।
স্থানীয় আশেকানরা জানান, প্রতিবছর ফরিদপুর দরবার শরীফে বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও ওরশ উপলক্ষে তিস্তা নদীর এ এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়া যাত্রা করে। তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এতে নজরানা প্রদান করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এ নজরানা দরবার শরীফে পৌঁছানোর মাধ্যমে তাঁরা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে শান্তি লাভ করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, নদীপথে ভুঁড়ায় থাকা ব্যক্তিরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সংগৃহীত নজরানা ফরিদপৃর দরবার শরীফে পৌঁছে দেন। এ কারণে স্থানীয় আশেকানদের মধ্যে ভুঁড়াটির যাত্রাকে ঘিরে প্রতিবছরই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
তিসতা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুস ছালাম বলেন, “আশেকানরা বিশ্বাস করেন, দরবারে গিয়ে তাঁদের আত্মার প্রশান্তি মেলে। তাই তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানকে নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই।”
এদিকে, তিস্তা নদীতে পতাকা উড়িয়ে সাজানো বাঁশের ভুঁড়াটি আসার পর থেকেই আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে এসে ভুঁড়াটি দেখেন। একপর্যায়ে ভুঁড়াটিকে ঘিরে তিস্তা নদীর পাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।