https://www.a1news24.com
১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০১

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়, ন্যূনতম দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এই তিন খাতকে অর্থনীতির অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে সরকার দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচ্যাম আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নীতি সংস্কার থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, সেখানে আর্থিক খাত, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগতে পারে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও শক্তিশালী ইন্টারনেটকে অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশের সব নাগরিকের কাছে প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছাতে হবে।এ জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি জ্বালানি মিশ্রণ নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। গ্যাসের ক্ষেত্রে এফএসআরইউ ও স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুই মাসে সংস্কারের দাবি

আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে যে সব সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অনেকগুলোই দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে। কর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ব্যবসা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা কমাতে সরকারের বাজেটে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, শুধু বাজেট বক্তৃতায় সংস্কারের কথা বললে হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ডিরেগুলেশন কার্যক্রম তদারকিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বা নাগরিক সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোথাও আটকে গেলে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে কিছু আইন পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

করনীতি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার উদ্যোগ

ব্যবসায়ীদের অন্যতম অভিযোগ লালফিতার দৌরাত্ম্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, হয়রানি ও দুর্নীতি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং গভীরভাবে প্রোথিত। এগুলো দূর করে ব্যবস্থা সঠিক পথে আনাই সরকারের অন্যতম কাজ।

মন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি করনীতি প্রণয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম আলাদা করা হচ্ছে। করনীতি প্রণয়নে ব্যবসা ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বোঝেন এমন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, করনীতি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সেটিই অনেক সময় মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। নীতি প্রণয়নের আগে এর প্রভাব ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আদায় ও ভোগের ওপর কী হবে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর-সংক্রান্ত রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা অনলাইনে রিয়েল টাইমে দেওয়া গেলে হয়রানি ও অনিয়ম কমবে।

আরো..