https://www.a1news24.com
১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:১৮

কাউনিয়ায় বক্স-কালভার্ট ভেঙে দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতায় আমন চাষ ব্যাহত

কর্তৃপক্ষ দর্শকের ভূমিকায়

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ গাজীরহাট-টেপামধুপুর সড়কের একটি বক্স-কালভার্ট ভেঙে পড়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সময়মতো আমন ধানের চারা রোপণ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থার সৃষ্টি হলেও কালভার্টটি পুননির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউনিয়ার নিজপাড়া নতুন বাজারের কাছে গাজীরহাট-টেপামধুপুর সড়কের ওপর প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত বক্স-কালভার্টটি অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে পড়েছে। ভাঙা অংশে ইটের রাবিশ ফেলে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও কালভার্টেও নিচ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। ফলে পানি জমে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল জানান, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর বৃষ্টি ও বন্যার পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না।

শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গাজীরহাট-টেপামধুপুর সড়কটি কাউনিয়া উপজেলা সদর, গাজীরহাট, তকিপলহাট, কালীরহাট ও নতুনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক দিয়ে প্রায় ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও যাতায়াত করে। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত কালভার্টটি পুননির্মাণের দাবি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেন বলেন, এই বক্স-কালভার্ট দিয়ে প্রায় পাঁচটি গ্রামের পানি তিস্তা নদীতে গিয়ে পড়ে। বর্তমানে ভাঙা অংশে ইটের রাবিশ ফেলে কোনো রকমে যোগাযোগ সচল রাখা হয়েছে। তবে পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আমন ধান রোপণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত ফসল হাটে নিয়ে যেতেও সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনঝার আলী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বক্স-কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে নতুন বক্স-কালভার্ট নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং ভারী যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ এন্তাজুর রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, বক্স-কালভার্টটি পুননির্মাণের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, যাতে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা যায়। এলাকাবাসীর দাবি, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে বক্স-কালভার্টটি পুননির্মাণ করা হোক।

আরো..