https://www.a1news24.com
১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:২০

সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‍‍`আমরা বিএনপি পরিবার‍‍`-এর যৌথ উদ্যোগে ‍‍`ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান‍‍` শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়ে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর এখন আর কারো রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই, এখন সবার মূল কাজ দেশ গড়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একটি পক্ষ দেশ পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ না দিয়ে পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে নাটক তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। মনে রাখতে হবে, সরকার এই চক্রান্তের গভীরতা বোঝে। জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলেই সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও অভিভাবকের মতো আচরণ করছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।’

তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন কারো কারো পেশা হতে পারে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আগামী প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস ও ত্যাগের কথা জানতে পারবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘মাজারে হামলা করা, বাউলদের মারধর করা বা মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা আমাদের সংস্কৃতি বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। এসব অপসংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।’ পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই চূড়ান্ত পরিণতি উল্লেখ করে তিনি চব্বিশের আন্দোলনে নিহত সকল শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভেদ ও ষড়যন্ত্র তৈরি না করে পতিত ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‍‍`আমরা বিএনপি পরিবার‍‍`-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।

রুমন আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক এবং ফটোসাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই নেতাকর্মীদের সহায়তা করেছেন। তিনি সবাইকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানান এবং ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বিএনপি পরিবারের নেতাকর্মীদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিপিজেএ গ্যালারিতে সংরক্ষিত বিগত ১৫ বছরের গণসংগ্রাম ও চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্রসমূহ পরিদর্শন করেন।

আরো..