ভারতে পাচারের আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবার সকালে র্যাবের গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মম নির্যাতনের স্থানটি সরাসরি দেখানোর জন্য বিচারপতিদের সেখানে আনা হয়েছে। এটি মেমোরেন্ডাম আদালতের বিচারের একটি অংশ হবে। আয়নাঘরের কার্যক্রম আড়াল করতে যারা আলামত নষ্ট করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা টিএফআই সেলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, টিএফআই সেল বলে কিছু নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র্যাব জড়িত নয়।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ে পৌঁছান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন দলের সদস্য এবং টিএফআই সেলের গুমের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরে তারা র্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন।
টিএফআই সেলে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট আসামি ১৭ জন। তাদের মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে র্যাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।
এর আগে গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করেন।