শুধু ফ্যাসিবাদ তাড়াতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি বরং দেশবিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে অভ্যুত্থান হয়েছে: চরমোনাই
ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ ও গণমিছিল
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর জন্য দেশে জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি বরং দেশবিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। জনগণ দেশ রক্ষায় জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, শান্তিতে বসবাস করার জন্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপিও ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে দখল ও ভাগ করে গ্রাস করতে চায়, তাদের বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী স্লীপ অব টাং বলে পাশ কেটে যাচ্ছে। নতুনভাবে দেশে জঙ্গি নাটক সৃষ্টি করে ইসলামপন্থি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসাকে ধ্বংস করতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গি এটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়, এটা ভারতের সংষ্কৃতি। এই জঙ্গি- জঙ্গি খেলা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন নেতারা ম্যাপ দেখায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান ভুটানসহ একদিন অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারী আসার পর পশ্চিম বঙ্গকে নরকে পরিণত করেছে। মুসলমানদের বাড়ী-ঘর, দোকানপাঠ, মসজিদ মাদরাসাকে গুড়িয়ে দিচ্ছে। মুসলিম নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে। জোরপূর্বক মুসলমানদের শ্রীরাম বলতে বাধ্য করছে, মেয়েদের সিঁদুর পরাচ্ছে। তিনি ভারতের যে কোন ষড়যন্ত্রর মোকাবেলায় দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে আমরা ভালবাসি,তাই জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও দেশকে রক্ষা করবো।
মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আরও বলেন, ধর্মকে হাতিয়ার করে কোন ধরণের সহিংসতা কাম্য নয়।আজ শুক্রবার (১০ জুলাই’২৬) বাদ জুমা ঢাকার বায়তুল মুকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এর উদ্যোগে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, হাফেজ মওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মাছউদুর রহমান, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, যুবনেতা ইলিয়াস হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নূর, মুফতি নিজামুদ্দিন।
মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশে পা রেখে যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা তার ব্যাখ্যা চেয়েছি, কিন্তু হাইকমিশন আজও তার সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেননি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস এক হলেও বাংলাদেশের বেদনা ভিন্ন। তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, ভারত বাংলাদেশকে একটি করদরাজ্যে পরিণত করতে চায়। ভারত বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব থেকে কোন শিক্ষা নেয়নি। সুশাসন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি উৎখাতে জনআকাঙ্খায় জুলাই সংঘটিত হয়েছিলো। জুলাইর আকাঙ্খা বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দল ঐকমত্যের ভিত্তিতেই গণভোটের দাবি করেছিল। সেই জুলাই সনদে ৭০ ভাগ মানুষ জুলাই সনদকে সমর্থন দিয়েছে। এই সরকার আওয়ামী লীগের মত হোক, এটা আমরা চাই না। জুলাই সনদে পিআর এর ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ ছিল এবং তা সংসদ গঠনের ৬ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল। আমরা তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। নতুন করে কোন সঙ্কট তৈরি হোক তা আমরা চাই না।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করলো, অসাধু কতিপয় নেতা দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করলো। আবার ২০২৪ এ জীবন দিয়ে ফ্যাসিস্ট হটালো দেশের ছাত্র জনতা। কতিপয় অসাধু নেতা এদেশের স্বার্থকে ওয়াশিংটন ও ভারতের কাছে বিক্রয় করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নিলো। যারা দেশের জনগণের পরিবর্তে সাম্রাজ্যবাদীদের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাদের দ্বারা দেশের কখনো কল্যাণ হতে পারে না।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বায়তুল মোকাররম পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি হয়ে পুরানা পল্ট মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। প্রচন্ড বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন।