https://www.a1news24.com
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১৬

কাউনিয়ায় চাঁই কিনতে ভিড় করছেন শৌখিন ও পেশাদার মৎস্যশিকারীরা

দেশীয় ছোট মাছ ধরার প্রস্তুতিতে

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে দেশীয় ছোট মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের চাহিদা বেড়েছে। তিস্তা, মানাস ও বুড়াইল নদী, সরকারি জলাশয় এবং অসংখ্য খাল-বিল ও ডোবা-নালায় বর্ষার নতুন পানি নামতে শুরু করায় মাছ শিকারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গ্রামীণ জেলে ও শৌখিন মাছ শিকারীরা। সেই সঙ্গে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে উপজেলার প্রাচীন বাঁশশিল্প।

সরেজমিনে তকিপল হাট, টেপামধুপুর ও খানসামা হাট সহ বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ধরার বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের সারি। প্রতিদিনই এসব চাঁই কিনতে ভিড় করছেন শৌখিন ও পেশাদার মৎস্যশিকারীরা। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য থাকায় চাঁইয়ের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ কওে এবার আগাম বর্সা হওয়ায় চাহিদা একটু বেশী।

চাঁই তৈরির কারিগর মন্টু মিয়া বলেন, বছরের অন্য সময় তেমন বিক্রি না থাকলেও বর্ষা এলেই চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বন্যার বছরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তবে বাঁশের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তিনি এই ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান।

চাঁই বিক্রেতা আব্দুর রশিদ বলেন, চাহিদা ভালো থাকলেও বাঁশের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লাভের পরিমাণ কমে গেছে। অন্যদিকে কাউনিয়ার মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ভোলা রাম দাস জানান, চাঁইয়ে ধরা দেশীয় সাতমিশালি মাছের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে এসব মাছ দ্রæত বিক্রি হয় এবং জেলেরাও ভালো দাম পান।

বর্ষার মৌসুমকে ঘিরে কাউনিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেমন দেশীয় মাছের সরবরাহ বাড়ছে, তেমনি নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্পেও। তবে এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও যথাযথ উদ্যোগ।

আরো..