ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘোষণার ফলে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর ভারতে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) কলকাতার নবান্নে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব ব্যক্তি সিএএ-এর আওতায় পড়বেন না, তাদের আটক করে রাজ্য পুলিশ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করবে। পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, ভারত সরকারের পাঠানো নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে আগের সরকারকে দায়ী করেন তিনি।
সিএএ আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন, তবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা মুসলিম জনগোষ্ঠী এর অন্তর্ভুক্ত নন। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশকারীরা নাগরিকত্বের সুযোগ পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আইনটির বাইরে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” নীতির কথাও উল্লেখ করেন, যা প্রয়োগের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অবশিষ্ট সীমান্ত এলাকাতেও দ্রুত নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।