https://www.a1news24.com
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:২২

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম, প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা আবারও নাড়া দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে। ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী ধারা থমকে গেছে।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসের সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারেরও বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা আবার ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে—যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার উচ্চমাত্রার কাছাকাছি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাব-প্রতিপ্রস্তাবের কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা গ্রহণে অনীহা দেখাতে পারে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই অচলাবস্থার প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। দেশটির অটো ক্লাব ‘এএএ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি আরও তীব্র হতে পারে।

আরো..