https://www.a1news24.com
২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২২

শ্রীপুরে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে বৃদ্ধার গরু বিক্রির টাকা হাতিয়ে নিলেন স্থানীয় কিছু বিচারক নামে দালালেরা

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে সাজানো ধর্ষণের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হযরত আলীর কাছ থেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও খোলা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশাালী কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ওই বৃদ্ধা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ধর্ষনের ঘটনায় নিজের শেষ সম্বল গরু বিক্রির টাকা দিয়ে প্রভাবাশালীদের কাছ থেকে রেহাই পেয়েছেন। তাদের কাছে স্ট্যাম্প চাইতে গেলে আরো ২০ হাজার টাকা দাবী করছে প্রভাবশালীরা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বৃদ্ধার কাছ থেকে টাকা নেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কাশিজুলী (নতুন বাজার) পশ্চিমপাড়া গ্রামে প্রভাবাশালীরা বৃদ্ধাকে ডেকে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে।

অভিযুক্তরা হলো কাশিজুলী (নতুন বাজার) পশ্চিমপাড়া গ্রামের হানিফ প্রধানের ছেলে জালাল প্রধান, হাশেম প্রধানের ছেলে বারেক প্রধান, হেকিম প্রধানের ছেলে শামসুল প্রধান, হযরত আলী প্রধানের ছেলে ছালাম প্রধান, হাফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম মধু শেখসহ তাদের ৮-১২ জন সহযোগী। স্থানীয়রা জানায় অভিযুক্ত শামছুল প্রধান ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং অন্যান্যরা স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তারা সালিশ বসিয়ে সাজানো ধর্ষণের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হযরত আলীর কাছ থেকে ১০হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও খোলা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে।

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হযরত আলী বলেন, আমি গরিব মানুষ। অন্যর জমি বর্গা চাষ করে স্ত্রী, ছলে-মেয়েকে নিয়ে কোনোরকমে জীবন পার করছি। আমার উপর সাজানো এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রভাবশালীরা আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। নিজের ওপর এমন কথা উঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। আমি আর বাঁচতে চাই না। আমার ডাঙ্গর (বড় বড়) পুতাইনের (ছেলেদের) সামনে আমার ওপর তুলে দেওয়া অপবাদের কথা মনে হলেই মরে যেতে ইচ্ছে করে। আমি সহ্য করতে পারি না, আমার ওপর তুলে দেওয়া অপবাদ মনে হলেই পাগল হয়ে যাইগা।

তিনি আরো বলেন, রবিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে অভিযুক্ত প্রভাবাশালীরা আমাকে খবর দিয়ে মেয়ের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি তারা লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকের মতো আয়োজন করে বসে আছে। সম্প্রতি ঝড়ে ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেলে মেরামতের জন্য ৪৮ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। প্রভাবশালীদের চাপে আমার ছেলে গরু বিক্রির টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা এনে জালাল প্রধানের হাতে দেয়। পরে খোলা স্ট্যাম্পে তিন জায়গায় আমার সই (স্বাক্ষর) রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত তারা আমার গরু বিক্রির টাকা খেয়ে ফেললো প্রভাবশালীরা। তাদের কাছে স্ট্যাম্প চাইতে গেলে আরো ২০ হাজার টাকা দাবী করছে।

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হযরত আলীর ছেলে শাহীন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। নুন আনতে পানতা ফুরায়। কাজে বের না হলে আমার ঘরে ভাত জুটে না। আমি একাই উপার্জন করে পরিবারের ৬ জনের ভরনপোষন করি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, ছোট দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে কষ্ট হয়। বারেক প্রধান আমার কাছে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাইলে গরু বিক্রির টাকা থেকে প্রভাবশালীদেরকে ১০ হাজার টাকা দেই। আমার বাবা যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে আমার বাবার বিচার হোক। আমিও আমার বাবার বিচার চাই।

অভিযুক্ত জালাল প্রধান ও বারেক প্রধান বলেন, মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে এটা সঠিক। মেয়ের স্টেটমেন্ট ও বর্ণনা মতে ঘটনা সত্য। হযরত আলীর মেয়ের জামাই রফিকুলের অনুরোধে আমরা আপোষ মীমাংসার করে ১০ হাজার টাকা মেয়ের দাদিকে দিয়েছি। মেয়েকে বাপের বাড়িতে অথবা স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের কাশিজুলী (নতুন বাজার) এলাকার সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মনোয়ারা বলেন এরকম কোন ঘটনা তিনি জানেন না।

বরমী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মাসুদ সরকার বলেন, ধর্ষনের বিষয়ে কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। অভিযুক্ত শামছুল প্রধান ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, কাশিজুলী (নতুন বাজার) এলাকার ধর্ষণের কোনো ঘটনা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

আরো..