ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জুলাই মামলায় পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান ওরফে সুখনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরে যাচাই-বাছাই শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান এ ঘোষণা দেন। তবে একরামুজ্জামান বর্তমানে পলাতক থাকায় যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি দলটিতে যোগ দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় একরামুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নাসিরনগর, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় মোট সাতটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট। এদিকে, ওই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান একরামুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, “একরামুজ্জামান সাতটি মামলার পলাতক আসামি। একজন পলাতক আসামি কীভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন? আমরা এটি বাতিলের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম।” নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, নাসিরনগর থানার মামলায় একরামুজ্জামান জামিন নেননি এবং পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক হিসেবেই চিহ্নিত।
মনোনয়নপত্র বৈধ করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “দাখিল করা সব কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় আইনগতভাবে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষ আপত্তি জানাতে চাইলে বিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে।”
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একরামুজ্জামান সুখন আত্মগোপনে রয়েছেন।