মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টায় ২য় দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন তারা। পরে প্রায় দুপুর ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে নানা স্লোগান দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। পরে যৌথ বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
প্রায় চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ চলাকালে সড়কের দুই পাশে শতশত যানবাহনের লাইন কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন চালক, যাত্রীসহ চলাচলকারী মানুষ।
৮ দফা দাবির মধ্যে আছে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, সব কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদ শুধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য সংরক্ষণ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের গেজেটেড পদমর্যাদা, পর্যাপ্ত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) থেকে পৃথক করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বেসরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ইন্টার্নি ভাতা চালু ও ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা।
মো. বরকাতুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিন–চার মাস আগে একই দাবিতে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামলেও কর্তৃপক্ষ তখন দাবি মেনে নেওয়ার জন্য শুধু আশ্বাস দিয়েছিল। বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’
জানা যায়, এর আগে পরীক্ষা বর্জন করে অধ্যক্ষের কার্যালয়সহ অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থীরা।
ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালের রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ৫৫১ জন শিক্ষার্থী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করে অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গত ১ সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতার গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরোধ করেন। পরদিন বেলা ১২টা থেকে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জিত চন্দ্র নাথ ও যৌথ বাহিনীর একটি দল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যান তাদের।
রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কিশোর কুমার মজুমদার বলেন, বুধবার দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ সেমিস্টারের ২৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করেছে এবং অন্যান্য সেমিস্টার আরও ২৬৫ জনসহ মোট ৫৫১ জন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে। আমার কক্ষসহ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চলছে।