https://www.a1news24.com
১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৩০

হাতিয়ার চর আতাউরে চলছে দখলের মহোৎসব সঙ্কটে গোচারণভূমি

(বাথানদের অস্তিত্ব ও বিতাড়নের পরিস্থিতিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা)

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি : দ্বীপ হাতিয়ার কোল ঘেঁসে মেঘনার বুকে জেগে উঠা বিশাল এক চর। দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে গরু মহিষ আর ভেড়ার পালের বিচরণভূমিতে। প্রায় তিনশত একরের ম্যানগ্রোভ রিজার্ভ ফরেস্টের পাশাপাশি যেন এক অনন্য জীববৈচিত্র্যের অভয়ারন্য। বহু বছর ধরে এসব চরে বাতানরা তাদের হাজার হাজার গরু মহিষ লালন-পালন করে আসছেন। স¤প্রতি সেই চরে নেমে এসেছে দখলের খড়গ। সরকার পরিবর্তনের পর প্রভাবশালী একটি মহল সারিবদ্ধ মাটির স্তুপ দিয়ে দখলের চিহ্ন বসাচ্ছে। বাথানদেরকে জীবনের হুমকি দিয়ে অনেকে নিজের মতো শুরু করেছে চাষাবাদ। এতে চরে বাথানদের অস্তিত্ব ও বিতাড়নের পরিস্থিতিতে ফের হতাহতের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিরাজ করছে।

গত বছর এই সময়ে চরআতাউরের উত্তরপাশে জাগলার চরে চরদখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে এই চরটির অবস্থান। চরটি বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বীপের মূল ভূখন্ডে থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সীমিত জনবল নিয়ে দখল ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে বনবিভাগ। ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের কাছে লিখিতভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।

সম্প্রতি চর আতাউরে গিয়ে দেখা যায় চরের বেশ কিছু অংশে বড় পাওয়ারটিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। চরের গুচ্ছগ্রামে বাসিন্ধারা জানান, এখানকার জমিগুলোতে প্রভাবশালী কিছু লোক দখল করে চাষ করছে। আগে এই চরে তাদেরকে দেখা যায়নি। তারা ভ‚মিহীনও নয়। সরকার দলীয় প্রভাব দেখিয়ে এখানে জমি দখল করছে। চরের উত্তর পাশ থেকে সারিবদ্ধভাবে মাটির স্তুপ করে রাখা হয়েছে। প্রতিটি স্তুপে গাছের ডাল পুতে দেওয়া আছে। টাকার বিনিময়ে প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে এসব জায়গা পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাথানদের ঘরের চার পাশেও রাখা হয়েছে এই স্তুপচিহ্ন।

চরের উত্তর পাশে ও মাঝামাঝি দুটি জায়গায় বাতানেরা অস্থায়ী ভাবে বসবাসকারীরা জানান, দক্ষিণপ্রান্তে একটি আশ্রায়ন ও দুটি গুচ্ছগ্রামে ৪ শত পরিবার বসবাস করে। আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে কোন প্রশাসন এখানে থাকে না। বনবিভাগ বিশাল এই চরে পুরাতন কেওড়া বাগানের রক্ষনাবেক্ষণ করলেও পাশাপাশি নতুন জেগে উঠা চরে কেওড়ার বীজ বপন করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে দখলকারীরা স্তুপ তৈরি করে দখল করে নিয়েছে বনবিভাগের এই বিশাল এলাকা।

আবু তাহের বাথান জানান, গত মৌসুম থেকে এই চরে দখলের কর্মকান্ড চলে আসছে। বর্ষায় হঠাৎ তাদের ঘরের চারপাশ দখল করে জমি চাষ শুরু হয়। বাধা দিলে নেমে আসে নির্যাতন। ঘরে এসে করা হয় হামলা। প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পায়নি তারা। এতে তাদের কাছে থাকা প্রায় হাজার হাজার মহিষ গরু খাদ্য সংকট দেখা দেয়। চারদিকে জমি চাষ হয়ে যাওয়ায় কার্যত আটকা পড়ে এসব গরু মহিষ। উপায় না পেয়ে দখলদারদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে গরু-মহিষচারণের অনুমতি নিতে হয়েছে। এই বছর বর্ষার আগে আবার জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে কিছু লোকজন এসে এসব জায়গা পরিমাপ করে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দেওয়া শুরু করে।

মফিজ বাথান জানান, গত ১০ বছর ধরে এই চরে মহিষ পালন করছেন। কেউ কখনো চর দখলের চেষ্টা করেন নি। সরকার বদলের পর থেকে বিভিন্ন গ্রæপ এসে চর দখল করছে। তমরদ্দির আঠারোবেকী চরকিং চরবগুলা সহ দ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এসে এই চর দখল করছে। এতে করে যেকোন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।

মহিষ মালিক নুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই চরে গরু মহিষ পালন করছেন। জলোচ্ছ¡াস থেকে রক্ষা করতে মালিকেরা এখানে কিল্লা পুকুর তৈরি করেছেন। হঠাৎ করে একটি পক্ষ তাদেরকে চর থেকে চলে যেতে বলছেন। বাথানদের বিভিন্ন সময় মারপিট করছেন। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন সুফল পায়নি বলে জানান তিনি। সরকারি ভাবে এই চরটিকে মহিষের চারণভূমি ঘোষনার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, চর দখলের বিষয়টি মহিষের মালিকরা জানিয়েছে। সরকারি জায়গায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কারো দখল করার সুযোগ নাই। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে এসব চরে দখল মুক্ত করা হবে ।

আরো..