সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়ায় বন্যা ও টানা বৃষ্টির নতুন পানিতে শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদী-নালা, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছড়িয়ে পড়ায় পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি শৌখিন মাছ শিকারিরাও নেমেছেন মাছ ধরায়। ফলে উপজেলার গ্রামীণ জনপদজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদী-নালা ও জলাশয়গুলো নতুন পানিতে ভরে গেছে। বর্ষার এই নতুন পানিতে মাছের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও ঝাঁকি জাল, কোথাও টানা জাল, আবার কোথাও ঠেলা জাল, পলো, চাই, বড়শিসহ নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে প্রতিদিনই দেখা মিলছে মাছ ধরার এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য। ধরা পড়ছে টেংরা, পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, খলিসাসহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ। এসব মাছ স্থানীয় বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি।
সারাই ইউনিয়নের আরাজী বীরচরণ গ্রামের তবারক আলী বলেন, “বর্ষাকালে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। মৌসুম শুরু হলেই গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই মাছ ধরতে নেমে পড়ে। এটি শুধু জীবিকার বিষয় নয়, বরং আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতিরও একটি অংশ।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির সময় পানির স্রোত বাড়লে মাছের চলাচলও বৃদ্ধি পায়। ফলে এ সময় তুলনামূলক বেশি মাছ ধরা সম্ভব হয়। এ কারণেই বর্ষা এলেই জেলে, দিনমজুর ও শৌখিন মাছ শিকারিরা জালসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে জলাশয়ে নেমে পড়েন।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “জলাশয় প্রকৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এগুলোর সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিস্তা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত কাউনিয়া এলাকায় বর্ষা ও বন্যার নতুন পানিতে চারপাশের জলাশয়, কৃষিজমি ও খাল-বিল একাকার হয়ে যায়। এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।”