হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতাঃ হাতিয়ায় প্রাইমারীর এক ছাত্র অভিভাবককে গালমন্দ ও মামলার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অভিভাবক বাকের হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযুক্ত মামুন অর রশিদ উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ম্যাকপাশর্^ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়।
স্কুলের পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র তাওরাতের বাবা বাকের হোসেন জানান, তার ছেলের পড়ালেখার বিষয়ে খোঁজ নিতে স্কুলে যান। এ সময় জানতে পারেন যে প্রধান শিক্ষক মামুন অর রশিদ ছুটিতে আছেন। পরে স্কুলের সহকারি শিক্ষকদের সাথে আলাপ করে চলে আসার পর প্রধান শিক্ষককে ফোন দেওয়া মাত্র অশ্রাব্য গালমন্দ করেন। স্কুলে গিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়ার অধিকার কে দিয়েছে বলে আমাকে অপমান অপদস্ত করে মামলা হামলার হুমকি দেয়।
অভিভাবক বাকের হোসেন আরো বলেন, আমি শুধু ছেলের পড়াশোনা খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে অপমান অপদস্ত করেন এবং নানান ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যাহাতে আমি বিব্রত।
এ ঘটনায় অন্যান্য অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্কুলে সন্তানদের খোঁজ খবর নেওয়া অভিভাবকদের অধিকার। অথচ দায়িত্বে থাকা একজন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ শুধু অভিভাবকদের জন্য নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়। কোন শিক্ষক বা অভিভাবক তার মতের বাহিরে গেলে মামলার শিকার হতে হয়েছে। এলাকার অনেকে তার ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।
এলাকার স্থানীয় গোলাম ছাওয়ার এবং সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, বাকের হোসেন সহ আমরা স্কুলের পাশে বাজারে চায়ের দোকানে বসা ছিলাম। ঐ সময় প্রধান শিক্ষক বাকেরকে ফোন দিয়ে উচ্চবাচ্য করেন। বাকের কেন স্কুলে গেল; কেন তার বিষয়ে জানতে চাইলো; এজন্য গালমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মামুন বাকেরকে ১৪ শিকের ভিতর ঢুকাইয়া দিবে বলে হুমকি দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে মামুন অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাকের আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ দিবে। আমাকে এবং শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের জন্য আমি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল জব্বার বলেন, অভিভাবকের অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।