https://www.a1news24.com
১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:৩৮

হঠাৎ বাফুফে ভবনে কেনো কাজী সালাউদ্দিন, কী বললেন নতুন সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক: দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী সালাহউদ্দিন। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা বাফুফের সভাপতি হিসেবে যেমন আলোচনায় ছিলেন, তেমনই অনেক কারণে সমালোচিতও হয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ছাড়েন তিনি। নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাবিথ আউয়াল এরই মধ্যে দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। এরপর থেকেই দৃশ্যপটের আড়ালেই ছিলেন সালাহউদ্দিন। তবে হঠাৎ এদিন তিনি হাজির বাফুফে ভবনে।

২০০৮ সালে প্রথমবার বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন কাজী সালাহউদ্দিন। এরপর টানা চার মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব ছাড়ার পর বুধবার (২৯ জানুয়ারি) প্রথমবারের মতো বাফুফে ভবনে এসেছিলেন তিনি।

তবে বাফুফের বর্তমান সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে দেখা হয়নি সালাহউদ্দিনের। বিশেষ কাজে এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন তিনি। তবে সালাহউদ্দিন বাফুফে ভবনে এলে তাকে ফোন করেন তাবিথ। তাকে সম্মান জানিয়ে সভাপতির চেয়ারে বসতে বলেন তিনি।

বাফুফে ভবনে নিজের দীর্ঘদিনের কার্যালয়ে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সালাহউদ্দিন। তবে সভাপতির চেয়ারে বসেননি তিনি।দুই মেয়াদে বাফুফেতে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কাজ করেছেন তাবিথ আউয়াল। ফলে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বেশ ভালো পরিচয় ছিল।

এদিন হঠাৎ বাফুফে ভবনে সালাহউদ্দিনের আগমনের পেছনে নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পারিশ্রমিকের চুক্তি নবায়ন, বকেয়া বেতনের দাবি এবং বর্তমান কোচ পিটার বাটলারের অধীনে অনুশীলন করতে অনীহা প্রকাশ করে দুইদিন ধরে অনুশীলন বয়কট করেছে নারী দলের সদস্যরা। এই সমস্যার সমাধানেই তিনি বাফুফে ভবনে এসেছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।বাফুফে ভবনে এদিন প্রায় ৩ ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন সালাহউদ্দিন।

সালাউদ্দিনের হঠাৎ আগমনের কারণ নিয়ে কৌতুহল ছিল বেশ। হঠাৎ তিনি কেন ফেডারেশনে? বাফুফে ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সালাউদ্দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা (ভবন) বাংলাদেশের ফুটবলের হোম, এমনি আসলাম। বাংলাদেশের সাফের কিছু টুর্নামেন্ট হোস্টিং (স্বাগতিক) করতে চায় ৷ এটা নিয়ে কিছু কাজ ছিল।’

বাফুফের নতুন কমিটি এসেছে তিন মাস। এই কমিটির কার্যক্রম নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ, ‘আসলে আমি সেভাবে ফলো করি না, গণমাধ্যমও দেখা হয় না। আশা করি ভালোই হওয়ার কথা। যারা আছে, তারা ফুটবল ও খেলার সঙ্গেই ছিল।’

বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন হামজা চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা এই ফুটবলারের বাংলাদেশে খেলার প্রক্রিয়া সালাউদ্দিনের সময়ে শুরু হয়েছিল। তার সম্পর্কে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘হামজা বাংলাদেশের হয়ে খেললে দারুণ বিষয়। এখন এশিয়ার অনেক দেশ শ্রীলঙ্কাতেও অনেক প্রবাসী ফুটবলার খেলছে।’

এই কিংবদন্তি বাফুফে সভাপতি না থাকলেও ফুটবলের সঙ্গেই আছেন। সাফের সভাপতি পদে এখনও আছেন। সাফ এবার প্রথমবারের মতো হোম অর অ্যাওয়ে ভিত্তিতে টুর্নামেন্ট করতে চায়। এটা কঠিন হলেও বাংলাদেশ ও ভারতই বেশি লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি, ‘এ রকম করার চেষ্টা অনেক দিনের। এই ভিত্তিতে খেলা হলে বাংলাদেশ ও ভারত কর্মাশিয়ালি বেশি বেনিফিট পাবে। এটা বাস্তবায়ন করা কঠিনও। ভারত-পাকিস্তানের ভিসা ইস্যু আবার এখন বাংলাদেশের সঙ্গেও ( ভারত)।’

বাফুফে সূত্র বলছে, সালাউদ্দিনের মেয়াদকালের কিছু বিষয়ে আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল, সেটা সম্পন্ন করতেই নাকি ভবনে এসেছিলেন।

আরো..