https://www.a1news24.com
১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৯

সিলেটে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের সঠিক ডাটাবেইজ প্রণয়নের লক্ষ্যে সিলেটে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিস, সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে দেশের নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শুমারির গুরুত্ব ও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

পরিসংখ্যান অফিসার সুব্রত রঞ্জন হাজরার সঞ্চালনায় সেমিনারে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিসংখ্যান অফিস, সিলেটের উপপরিচালক কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর ওপর মূল কী-পয়েন্টস প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিস, সিলেটের যুগ্মপরিচালক মোহাম্মদ আজাদুর রহমান।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ মশিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নৌযানের তথ্য সরকারের ডেটাবেইজে নেই। এই শুমারির মাধ্যমে ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানের সঠিক তথ্য যদি এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা সম্ভব হয়, তবে তা দেশের নৌ-পরিবহন খাতের জন্য অনেক বড় একটি মাইলফলক হবে।

সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি, যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) সিলেট আশরাফুর রহমান বলেন, ইচ্ছে হলেই কেউ যেন নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌযান নামাতে না পারে, সেই বিশৃঙ্খলা রোধে নৌযান শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আনোয়ারুল হক আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এবং তাদের বিশেষ ইউনিট ‘নৌ পুলিশ’-এর মাধ্যমে নৌযান শুমারি ২০২৬ সফল করতে বিবিএস (ইইঝ)-কে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে।

বিশেষ অতিথি সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সড়কের যেমন লাইসেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে, ঠিক তেমনি সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযানেরও সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকা উচিত। এছাড়া সেমিনারে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সিলেট রেঞ্জের উপমহাপরিচালক শাহ আহমদ ফজলে রাব্বী (বিএএম, এনডিসি) বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

সেমিনারে জানানো হয়, দেশে এতদিন সরকারি বা বেসরকারি কোনো দপ্তরের কাছে অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ছিল না। এই শুমারির মাধ্যমে সমন্বিত ন্যাশনাল ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে, যা নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাস, নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনাকবলিত ভুক্তভোগীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং নীতি নির্ধারণে কাজ করবে।

বাংলাদেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান এবং চালিত ডাম্ব বার্জ (উঁসন ইধৎমবং) এই শুমারির আওতায় আসবে। তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযানগুলো এই শুমারির আওতামুক্ত থাকবে।

বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে গত ৪ হতে ১৭ মে ২০২৬ সময়কালে অনুষ্ঠিত মাঠ পর্যায়ের লিস্টিং অপারেশনের মাধ্যমে সারাদেশে সর্বমোট ২,৪৪,৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযানের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই ও গণনা এলাকা পুনর্র্নিধারণের লক্ষ্যে গত ৯ হতে ১৪ জুলাই ২০২৬ মেয়াদে জোনাল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মূল শুমারির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আগামী ৩ হতে ৪ আগস্ট ২০২৬ সময়ে পাইলট অপারেশন পরিচালিত হবে। সর্বশেষে আগামী ২০ হতে ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ে মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সেমিনার শেষ হয়।-বিজ্ঞপ্তি

আরো..