https://www.a1news24.com
২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:২৫

সংস্কার না করে পূর্বের নিয়মে নির্বাচন হতে পরে না-পীর সাহের চরমোনাই

দেশ যখন আগুনের মতো জ্বলছিলো তখন ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলো অন্যায়, খুন-খারাবী ও বৈষম্য থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য। তারা রক্ত দিয়ে দেশকে উদ্ধার করেছে। যদি কোন অশুভচক্র চাপ প্রয়োগ করে প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারের আগে নির্বাচনে ঘোষণা দিতে বাধ্য করে তাহলে আমরা পরিস্কার বলছি, আমরা ছাত্র-জনতা কিন্তু রাজপথ ছাড়ি নাই। যতদিন পর্যন্ত দেশের আইন-শৃংখলা সুন্দর না হবে, কাংঙ্খিত সংস্কার না হবে, বিচার দৃশ্যমান না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলার জমিনে পুর্বের নিয়মে নির্বাচন হতে পারে না; হতে দেয়া হবে না।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন। দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মুফতী রেজাউল করীম আবরার, যুবনেতা মুফতি মানসুর আহমদ সাকী, ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা রমজান আলী।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিগত ৫৪ বছরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছে সেই নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারই হলো সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য। সেই সংস্কারটাই হলো বিশ্বের বহুদেশের মতো পিআর পদ্ধতির নির্বাচন। এর মাধ্যমে বহুদেশে শান্তি এসেছে। কালোটাকার দৌরাত্ম, মাস্তানি ও সন্ত্রাস বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো পিআর পিদ্ধতির নির্বাচন। বিভিন্ন জরিপেও উঠে আসছে যে, অধিকাংশ মানুষই পিআর চায়। পিআর আজকে দেশের সকল ধারার মানুষের দাবীতে পরিনত হয়েছে।

পীর সাহ্বে চরমোনাই দৃঢ়তার সাথে বলেন, সংস্কার দৃশ্যমান হতে হবে। নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনী স্বীকৃতি দিতে হবে। নির্বাচনের পরে জুলাই সনদের আইনী স্বীকৃতি কেউ দিয়ে দেবে সেটা আশার গুড়ে বালি। সবাইকে আহবান জানাবো, টেন্ডারবাজী, রাহাজানি, সন্ত্রাস থেকে এবং বিদেশি অধিপত্য থেকে মুক্তির জন্য একমাত্র পদ্ধতি হলো পিআর পদ্ধতি। এই দাবী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তিনি জোড় দিয়ে বলেন, আমরা রাজপথ ছাড়ছি না।

মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, সংস্কার ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনে যেতে চায় না।দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ প্রশ্ন রেখে বলেন, জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি হলে সমস্যা কোথায়?

দলের মুখপাত্র মাওলান গাজী আতাউর রহমান বলেন, এই সরকারের আমলেই জুলাই সনদের আইনীভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে কারণ পরবর্তী কেউ তা বাস্তবায়ন করবেন সে আশা করা যায় না। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আচরণ রহস্যজনক। তিনি নিজেই বলছেন, সংস্কার না হলে দেশ আগের ধারায় ফিরে যাবে অথচ তিনি নিজেই জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নিশ্চিত না করেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রশ্ন করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কার চাপে গণমানুষের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দিলেন?

তিনি বলেন, কুমিল্লা বিএনপির এক নেতা একজন বোর্ড চেয়ারম্যানের কলিজা খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। এই দৈত্য-দানবদের কারণে বিদ্যমান পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে এমনকি বিএনপি নেতাদের নিরাপত্তার জন্যও পিআর পদ্ধতিই একমাত্র সমাধান। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে কেবল সাক্ষী গোপাল হওয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে নির্বাচনে যাবে না। বরং দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য আন্দোলন করে যাবে ।

প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিদ্যমান ধারায় আমাদের ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। দেশের ও জনতার কোন লাভ হয় নাই। আগের ধারায় নির্বাচন করে দেশকে আগের তিমিরে রাখার জন্য মাওলানা খুবাইব, আবু সাইদ, মুগ্ধরা জীবন দেয় নাই। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, কেউ যদি মনে করেন, আগের ধারায় নির্বাচন করে আগের মতোই চাঁদাবাজী, মাস্তানী করবেন তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জুলাইয়ের জনতা এখনো জেগে আছে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন চায়, একটি ফলপ্রসু নির্বাচন। যে নির্বাচনে সন্ত্রাসী, কালো টাকার মালিক, অশুভ শক্তিমুক্ত ও লুটেরা ক্ষমতায় আসতে না পারে। এ জন্যই আমরা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাই। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সন্ত্রাস, পেশীশক্তিগুলো নির্বাচনে আসতে পারবে না।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে বায়তুল মোকাররম, পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্রাঙ্কির কাছে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

আরো..