https://www.a1news24.com
৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:২৫

শ্রীপুরে বন্ধ প্লাস্টিক কারখানায় ডাকাতির চেষ্টা, ৬ ডাকাতকে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে বন্ধ কারখানায় ডাকাতির চেষ্টাকালে ৬ ডাকাতকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। সোমবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাওনা-বরমী সড়কের বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামের পিপিএস পাইপ এন্ড প্লাস্টিক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটক ডাকাত সদস্যরা হলেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাঘটিয়া গ্রামের ইদ্রীস আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৩২), একই জেলার তারাকান্দা উপজেলার ইসমাইল হোসেনের ছেলে এমদাদুল হক (৪৫), নওগাঁর রানীনগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে আরিফ (৩০), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার কামুলা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে ফারুক (৩২), নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার বালুর মাঠ গ্রামের সাহা আলমের ছেলে সীমান্ত (২১) এবং চাঁদপুরের মতলব উপজেলার মতলবপুর গ্রামের গোদা মোল্লার ছেলে ইব্রাহীম (২৩)।

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সাবেক সদস্য নাজমুল আকন্দ রনি বলেন, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ১০/১২ জনের একদল ডাকাত পিপিএস পাইপ এন্ড প্লাস্টিক কারখানায় প্রবেশ করে। তারা কারখানার এক নিরাপত্তা কর্মীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে। এসময় সড়ক দিয়ে পথচারীরা যাওয়ার সময় চিৎকার শুনতে পায়। পরে গ্রামবাসী পুরো কারখানা ঘেরাও করে ফেললে ডাকাতেরা কারখানার পেছনের সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় গ্রামবাসী ৬ তাদেরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী মকবুল হোসেন বলেন, ডাকাতেরা কারখানার সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে আমার হাত-পা বেঁধে ফেলে। এসময় আমি চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসী কারখানা বাহির থেকে ঘেরাও করলে ডাকাতেরা সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রামাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আজগর হোসেন সোহাগ বলেন, গতকাল মধ্য রাতে শ্রীপুর থানা পুলিশ ৬ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত সোহেল ও এমদাদুল হককে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, পিপিএস পাইপ এন্ড প্লাস্টিক কারখানাটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। ডাকাতেরা কারখানার যন্ত্রপাতি লুটপাট করতে এসেছিল। ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ৬ ডাকাতকে আটক করে গনধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আটককৃতরা আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নাজমুল আকন্দ রনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ভাগিনা পিপিএস পাইপ অ্যান্ড প্লাস্টিক কারখানার মালিক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।

আরো..