টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি-গাজীপুরের শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামবাসী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে বৃদ্ধ, শিশু এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এখানকার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে বারবার ধরনা দিলেও কোনো ফল হয়নি।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর শ্রীপুরের মাওনা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শান্তনু রায় বলেন, শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের গলদাপাড়া, হয়দেবপুর ময়মনসিংহ পল্লী বিদুৎ সমিতি-২-এর কাওরাইদ (সাব-জোনাল) অফিসের অধীনে এবং জাহাঙ্গীরপুর ময়মনসিংহের জামিরদিয়া (স্কয়ার মাষ্টারবাড়ী) জোনাল অফিসের অধীনে। এ দুইটা ষ্টেশন থেকে কাওরাইদের ওই তিন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এই ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।
গলদাপাড়া, হয়দেবপুর এবং জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে তিনটি গ্রামের পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কালবৈশাখী ঝড়ের পর দুই দিন পেরোলেও ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামত করা হয়নি। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়া ও ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে তিনটি গ্রামের সাড়ে ৪ হাজার গ্রাহক। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
গলদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকের মুঠোফোন বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংস ও অন্যান্য কাঁচাামাল (সবজি) নষ্ট হচ্ছে। আগে বিদ্যুৎ না থাকলে টাকার বিনিময়ে জেনারেটর দিয়ে ফোনে চার্জ দিতে পারতাম। এখন বিদ্যুৎও নাই, ডিজেলও নাই। ডিজেল না থাকার কারণে মালিক তাদের জেনারেটর চালাতে পারছে না। এতে আমরা গ্রামবাসী এখন সবদিক দিয়েই অন্ধকার সময় পার করছি।
হয়দেবপুর গ্রামের গৃহিনী অজুফা বেগম বলেন, সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে পানি তুলতে না পারায় পুকুর ও বিল থেকে পানি এনে ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে। অনেকেই দূরের টিউবওয়েল থেকে কলস দিয়ে পানি নিয়ে এসে রান্না করতে হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা জব্বার মুন্সি বলেন, বুধবার বিকেলের দিকে বিদ্যুৎ চলে গেছে। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা বেজে গেলেও বিদ্যুৎ আসার খবর নেই। ‘কখন যে বিদ্যুৎ আসবে জানি না। সমস্যা সমাধানে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দাবি জানাচ্ছি।
গলদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তমির উদ্দিন বলেন, যে কাজ এক দিনে শেষ করা যায়, স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তার সমাধান করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। সমস্যা সমাধানে তেমন তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। শুক্রবার জুম্মার দিন। অনেক মসজিদে অজুর পানিয নেই। মানুষ যে গোসল করবে তার ব্যবস্থা নেই।
স্কুল শিক্ষক স্থানীয় হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু জাকারিয়া পিন্টু বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষ তো এখন আর এক সেকেন্ড চলতে পারে না। ফ্রিজ বন্ধ, ফ্যান ঘোরে না, অসহনীয় গরম। এমন অবস্থায় দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। রাতে ঘুমাতে পারি না। এত বড় ঝড় গেল, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করব যে মোবাইলেও কল যায় না। টিভি নেই, ইন্টারনেটও নেই। আমরা একেবারে অন্ধকারে আছি। জীবন এত দুর্বিষহ যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদুৎ সমিতি-২-এর কাওরাইদ (সাব-জোনাল) সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম-ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবারের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে তার বিচ্ছিন্নসহ বৈদ্যুতিক অন্যান্য উপকরণ নষ্ট হয়েছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুটি। কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।