টি.আই সানি,শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় জননী এক্সপ্রেস এন্ড পার্সেল সার্ভিস ট্রান্সপোর্টের স্থানীয় মাওনা চৌরাস্তা শাখার বিরুদ্ধে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের জিন্স প্যান্ট আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাওনা চৌরাস্তার ইয়াকুব আলী টাওয়ারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে অবস্থিত “চিলেকোঠা” নামে একটি পোশাকের দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম গত ১৬ জুলাই কেরানীগঞ্জ থেকে তার দোকানের জন্য ৬৮ পিস জিন্স প্যান্ট ক্রয় করেন। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই দিন বিকেল ৫টা ২ মিনিটে কেরানীগঞ্জ শাখা থেকে চালান নম্বর-১০২৩৪৬০৮ এর মাধ্যমে জননী এক্সপ্রেস এন্ড পার্সেল সার্ভিসে ট্রান্সপোর্টে মালামাল পাঠানো হয়, যা ১৭ জুলাই মাওনা চৌরাস্তা শাখায় পৌঁছায়। মালামাল মাওনা শাখায় পৌঁছানোর পরও ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে তা বুঝিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জননী কুরিয়ার সার্ভিসে মাওনা শাখার ম্যানেজার জানান ভুলক্রমে মালামাল গুলো কে বা কাহারা ভেলিভারি নিয়ে চলে গেছে। বিষয়টির একটি ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের মালামালের বিষয়ে আগামী শনিবার দিন বিকেলে শ্রীপুর থানায় আলোচনার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই বিকেলে তিনি মাওনা চৌরাস্তা শাখা অফিসে গিয়ে মালামাল অথবা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দাবি করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। তার দাবি, জননী ট্রান্সপোর্টের স্থানীয় শাখা তার মালামাল আত্মসাতের অপচেষ্টা করছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি আইনগত প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জননী এক্সপ্রেস এন্ড পার্সেল সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় ব্যবস্থাপক মাসুদ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমরা যখন মালামাল বুকিং দেই তখন একটি মোবাইল নাম্বারে মেসেজ দেওয়া হয় এবং ওই মেসেজটি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মালামাল ডেলিভারি দেওয়া হয়। কিন্তু ওই মালামালটি অন্য ব্যক্তি কিভাবে মেসেজ দেখিয়ে ডেলিভারি নিয়েছে বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, জননী এক্সপ্রেস এন্ড পার্সেল সার্ভিস এর মাওনা শাখার মালামাল ডেলিভারির মিসিং এর একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি একজন অফিসার কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।