https://www.a1news24.com
২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০০

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনার আড়ালে ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি?

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। বিষয়টি নিয়ে ‘পর্যালোচনা’ করছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যদিও এটি তাৎক্ষণিক প্রত্যর্পণের নিশ্চয়তা নয়।

হংকংভিত্তিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন। এটি এমন সময় এসেছে, যখন নয়াদিল্লি নতুন বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আইনি বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। গত ১৭ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে, বাংলাদেশের অনুরোধটি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা’ শব্দগুচ্ছটি সাধারণত কূটনৈতিক ভাষা, যা সরাসরি সম্মতি বা প্রত্যাখ্যান না জানিয়ে একটি নমনীয় অবস্থান নির্দেশ করে। দিল্লির ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক অভিনব মেহরোত্রা বলেন, এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হলেও বাস্তবে সিদ্ধান্ত অনেকটাই রাজনৈতিক।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শুধু আইনি নয়, বরং বড় একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর-এর গবেষক অমিত রঞ্জন মনে করেন, এ ধরনের বিষয় দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।

এদিকে, ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, দিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে রাজনৈতিক পথকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী-কে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা সেই ইঙ্গিত বহন করে।

গোয়ার মন্ত্রায়া ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট শান্থি ম্যারিয়েট ডি’সুজা বলেন, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা। এই লক্ষ্য পূরণে শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ঢাকার কাছে সমর্পণ করা মানে কার্যত আওয়ামী লীগের অবসান।

ভারত নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী হলেও, ঢাকার পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক রয়েছে। ডি’সুজা বলেন, ঢাকা যদি আবার ভারতবিরোধী অবস্থানে ফিরে যায়, তখন চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সব সময়ই দিল্লির জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ হয়ে থাকবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা হলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তার নেতৃত্বাধীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ভবিষ্যতের ওপর।

বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লির এই ‘পর্যালোচনা’ অবস্থান আসলে সময় নেওয়ার কৌশল, যাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণগুলো বিবেচনায় রাখা যায়।

আরো..