রাজু মোল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সিদ্ধিরগঞ্জ ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত এক আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতার পক্ষে থানায় গিয়ে তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আওয়ামী লীগ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুলকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শহীদুল ইসলাম থানায় যান এবং সংশ্লিষ্ট আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর কাছে তদবির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি এজাহারভুক্ত হওয়ায় আইনগতভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এ ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, যিনি অতীতে নিজেকে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করেছেন, তিনি কী কারণে একজন আওয়ামী লীগ-যুবলীগের এজাহারভুক্ত নেতার পক্ষে থানায় গিয়ে তদবির করলেন।
এদিকে শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শহীদুল ইসলামের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সম্প্রতি এমন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিদাতাদের দাবি, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অতীতে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তাদের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়াকে দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দলীয় পদ শুধু পরিচয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দলের আদর্শ, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও জড়িত। যারা প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে অবস্থান করা সাধারণ নেতাকর্মীদের আবেগে আঘাত হানে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তাই বিষয়টির ব্যাখ্যা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শহীদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।