https://www.a1news24.com
৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০০

বৃষ্টির মধ্যেই জুলাই শহীদদের স্মরণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশ ও গণ-মিছিল অনুষ্ঠিত

জুলাই শহীদদের স্মরণে গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের উদ্যোগে আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) বিকাল ৩ টায় চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতাকর্মীরা বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সংগ্রামী সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরা স্বৈরাচারী শাসক হাসিনার পতনে জনগণ মাঠে নেমে এসেছিলো একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সেই বাস্তবতা এই দেশের জনগণ এখনো অবধি দেখতে পায় নাই।

তেল,গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া হলেও সরকার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে। স্বৈরাচারী শাসকদের পথ অবলম্বন করলে জনগণ কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বেশি দেরি করবে না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের সমালোচনা করে বলেন, অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হানাহানি ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষার সুষ্ঠ ু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে “জুলাইয়ের আন্দোলনে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র দল হিসেবে কেবল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই তাদের নিজস্ব ব্যানারে ছাত্র জনতার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই লড়াইয়ের ময়দানে শামিল ছিলো।

৫ই আগস্ট পীর সাহেব চরমোনাই হুজুরই সর্বপ্রথম প্রশাসন কর্তৃক ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গণভবন অভিমুখে মিছিলের যাত্রা শুরু করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই অবদানগুলোকে ইতিহাসের পাতা থেকে কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা দীন ইসলাম বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের আদর্শকে ধারণ করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণ-মিছিল চাষাঢ়া মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিআইটি এলাকায় গিয়ে দেশ, জাতি এবং জুলাইয়ের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে গণমিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

সমাবেশ ও গণ-মিছিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ , ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের জেলা শাখার উর্ধ্বতন দায়িত্বশীল, বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

আরো..