https://www.a1news24.com
১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:১৮

বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন: জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকান্ডর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট ভাই এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোড়ল এই অভিযোগ করেন। ​সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুর রহমান তার ভাইয়ের হত্যাকান্ডর পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও হুমকির তীব্র অভিযোগ তোলেন।

​হত্যাকান্ডর বিবরণ ও মামলা
​লিখিত বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল ও ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়ল নিহত হন এবং আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ​এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ১১ জুন ফকিরহাট থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​হাফিজুর রহমান মোড়ল নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন,​”আমার ভাইকে হত্যার আগে জামায়াত নেতারা আমাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করে বলেছিল, ‘আব্দুল্লাহ মোড়ল ও বাদল মোড়ল মার্ডার হলে এর দায়ভার কে নেবে?’ তারা বার বার আমাদের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যেতে নিষেধ করেছিল। এতেই প্রমাণিত হয় এই হত্যাকান্ডর সাথে তারাই জড়িত।”

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকান্ডর পর জামায়াত নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ সভায় মিথ্যাচার করছেন। জামায়াত নেতাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তার ভাইকে ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ হত্যা করা হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাও মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

​​মামলা দায়েরের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেপ্তারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের ভাই। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজনীতি ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে যেন আমার ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রæত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্জি. আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম, থানা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ,সাধারণ সম্পাদক মান্নান হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন।

আরো..