https://www.a1news24.com
২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১২:০৬

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না সৌদি ও পাকিস্তান

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিয়াদ তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতেই অনড় রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে একটি বড় ধরনের সমঝোতার পর মুসলিম দেশগুলো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন। এর পরই সৌদি আরবের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় আসে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার। তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখতে চায় রিয়াদ। দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের রূপরেখা ছাড়া কোনো চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নয় দেশটি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে সৌদি যুবরাজ জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর অগ্রগতি ছাড়া সৌদি আরব এই চুক্তিতে অংশ নেবে না।

মোহাম্মদ বিন সালমান ওই আলোচনাকে গঠনমূলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে সৌদি আরব বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

সৌদি আরবের পাশাপাশি ট্রাম্পের এই আহ্বানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে আহ্বান জানিয়েছেন, পাকিস্তানের উচিত হবে না তার সামনে নতি স্বীকার করা। গণমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব কোনোভাবেই পাকিস্তানের নিজস্ব মৌলিক রাজনৈতিক আদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

সামা টিভির একটি আলোচিত টক শো-তে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে খাজা আসিফ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে পাকিস্তানের এমন কোনো চুক্তিতে সই করা উচিত যা দেশের মূল চেতনার পরিপন্থী। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেবে না। নিজেদের ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং এই নীতিগত কারণে পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশটির কোনো নাগরিকের ইসরায়েল ভ্রমণের আইনি অধিকারও নেই।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণে ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও ফিলিস্তিন সংকট সমাধান ছাড়া সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে রাজি করানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আরো..