মো.অহিদ সাইফুল,
সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের আশ্বাসে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ জোটেনি যুবক মো. রোকনুজ্জামান রিংকুর। উল্টো আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৈধ কাগজপত্রের সংকটে সৌদি পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। কাজ ও আয়ের সুযোগ না থাকায় মানবেতর জীবন কাটছে তাঁর। ছেলের থাকা-খাওয়ার খরচ মেটাতে এখন দেশে বসেই টাকা পাঠাতে হচ্ছে বাবাকে। এ ঘটনায় আপন মামা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত মো. চুন্নু তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজাপুর উপজেলার উত্তর মনোহরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রিংকুর বাবা মো. রেজাউল করিম (জুয়েল)।
লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, ছেলের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থানের আশায় আপন মামা মো. চুন্নু তালুকদার, তাঁর স্ত্রী রাহিমা ওরফে পলি, সৌদি আরবে থাকা তাঁদের ছেলে রাজ্জাক তালুকদার এবং শ্যালক বেল্লালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। সেখানে নিরাপদ কর্মসংস্থানের আশ্বাসে ভিসার খরচ বাবদ তাঁদের চার লাখ টাকা দেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একপর্যায়ে রিংকুকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো কাজের ব্যবস্থা করা হয়নি। পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে রাজ্জাক ও বেল্লাল আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। দীর্ঘদিন পর আকামা দেওয়া হলেও এরই মধ্যে মেয়াদের পাঁচ মাস পার হয়ে যায়।
রেজাউল করিম বলেন, আকামা পাওয়ার পর তাঁর ছেলে মাত্র তিন মাস কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে মালিকের কাছ থেকে দুই মাসের বেতন পেয়েছেন। বর্তমানে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা নবায়ন করতে পারছেন না। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সৌদি পুলিশের হাতে আটকের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
ছেলের এমন দুরবস্থার কথা জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, গত তিন মাসে খাবার ও দৈনন্দিন খরচ বাবদ দেশে থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের আশায় এত টাকা খরচ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। অথচ এখন দেশে বসেই তার খাওয়ার টাকা পাঠাতে হচ্ছে। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও কোনো সমাধান পাননি। বরং তাঁদের বিরক্ত করলে ছেলেকে সৌদি পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া এবং যাতে কোনো দিন দেশে ফিরতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া চুন্নু তালুকদারের বিরুদ্ধে অতীতে ডাকাতি মামলায় সাজা ভোগসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন রেজাউল করিম। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষও তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. চুন্নু তালুকদার। তিনি জানান, সৌদি আরবে তাঁর ছেলের কাছে রেখে রিংকুর থাকা-খাওয়াসহ লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বাবদ ৭০ হাজার টাকা পাওনা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে শুরুতেই পাঁচ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল। এর মধ্যে চার লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি এক লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য রেজাউল করিম (জুয়েল) এখন নানা তালবাহানা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছেলের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও দেশে ফেরার ব্যবস্থা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রেজাউল করিম।