https://www.a1news24.com
,

বদলি হয়েও পরদিন প্রত্যাহার, পাইকগাছা-কয়রার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কী ঘটেছিল?

সরকারি ছুটির দিনে বদলির আদেশ, পরদিনই প্রত্যাহার; হাসপাতালের বিতর্কিত কর্মচারীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ সরকারি ছুটির দিনে বদলির আদেশ, আর পরদিন সকালে সেই আদেশ প্রত্যাহার! খুলনার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই প্রধান সহকারীকে ঘিরে এমন নাটকীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন ছুটির দিনে বদলির আদেশ জারি করা হলো, আবার কেন এক দিনের ব্যবধানে তা প্রত্যাহার করা হলো? কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, আর এর নেপথ্যে কী ঘটেছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিনে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী দেবব্রত রায় এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আব্দুল হাকিমকে বদলি করা হয়। তবে পরদিন রোববার সকালে তাঁদের ডেকে ওই বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এক দিনের ব্যবধানে এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলির আদেশ দেওয়া হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহারের যৌক্তিক কারণ কী? আর কোনো বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে থাকলে সেটি কী—তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী দেবব্রত রায়কে ঘিরে আগে থেকেই নানা বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে দেবব্রত রায় জানান, তিনি বদলি হয়েছেন বলেই জানেন না। তাঁর এমন বক্তব্যের পর বদলির আদেশ জারি এবং পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বদলির আদেশ যদি কার্যকর করার মতো যৌক্তিক কারণেই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে পরদিনই তা প্রত্যাহারের প্রয়োজন পড়ল কেন? কোনো মহলের চাপ, তদবির কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব কি এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?

স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তাই পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই কর্মচারীর বদলি এবং প্রত্যাহারের ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো..