বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে আইভরি কোস্ট। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকার দলটি।
পুরো ম্যাচজুড়ে গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি করেও হতাশ হতে হয়েছে ইকুয়েডরকে। দক্ষিণ আমেরিকার দলটি তিনবার পোস্ট ও ক্রসবারে বল মেরে গোলবঞ্চিত হয়। অন্যদিকে আইভরি কোস্টও একবার ক্রসবারে আঘাত করে।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদুর ভুলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। পেনাল্টি বক্সে জায়গা পেয়েও তার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
এরপর জন ইয়েবোহের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর পেড্রো ভিটের পাস থেকে পাওয়া সুযোগে অ্যালান মিন্দার শটও পোস্টে আঘাত করে হতাশা বাড়ায় ইকুয়েডরের।
আইভরি কোস্টের হয়ে ডান প্রান্তে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। তবে তার তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সতীর্থরা। নিকোলাস পেপে একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন, আরেকটি শট সতীর্থ এলি ওয়াহির গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় আইভরি কোস্ট। দিওমান্দে দুটি ভালো সুযোগ পেলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পরে তার ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
অন্যদিকে ইকুয়েডরের গঞ্জালো প্লাতা ও জোয়েল অর্ডোনেজও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়াহ ফোফানা গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
ম্যাচ যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। ৯০তম মিনিটে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত দৌড় ও নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে চমৎকার শটে জাল খুঁজে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। তার সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আইভরি কোস্ট।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা, আর সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে।