https://www.a1news24.com
৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:০৮

ডাঃ শফিকের নেতৃত্বে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিন্ডিকেট মুক্ত সেবার নতুন বার্তা ​

টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ​শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডাঃ শফিকুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালজুড়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্থানীয় এই কৃতি সন্তান দায়িত্ব নিয়েই হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে এবং অতীতের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

​ডাঃ শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকা পূর্ববর্তী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। তাঁর এই সাহসী উদ্যোগের ফলে হাসপাতালে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। সেবার পথে যে দীর্ঘদিনের বাধা ছিল, তা অপসারণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

​হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে ডাঃ শফিকের চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। দালালদের উৎপাত বন্ধ করতে তিনি কঠোর অবস্থানে আছেন এবং এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহায়তা চেয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে রোগী সুরক্ষাকে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
​হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মান নিয়ে আগে অনেক অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ক্যাটারিং সার্ভিসের মাধ্যমে খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে এবং গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই উন্নতি রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য সহায়ক হচ্ছে।

​ডাঃ শফিকুল ইসলাম একজন সৎ ও নির্ভীক চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতাল প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্প্রতি দুদক কর্তৃক অভিযানকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাগত জানিয়েছেন, যা তাদের স্বচ্ছতার প্রতি অঙ্গীকারকেই প্রকাশ করে। এই ধরনের পদক্ষেপ ছোট ছোট ত্রুটিগুলো সংশোধনে সহায়ক হবে।

​যদিও সরকারি হাসপাতাল হিসেবে তীব্র চিকিৎসক সংকট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সীমিত সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবুও ডাঃ শফিক ও তাঁর দল সীমিত সম্পদ নিয়েই প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক (প্রায় ১৫০ জন) রোগীকে সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডাক্তাররা রোগীর স্বার্থে উন্নত ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন, যাতে তারা সঠিক চিকিৎসা পান।

​হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শুধু একটি সেবাকেন্দ্র নয়, বরং একটি ভরসার ঠিকানায় পরিণত করতে চাই। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি, কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিতে নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি একটি বাস্তবতা। কিন্তু আমরা সীমিত সম্পদ নিয়েও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রাখছেন, তার প্রতিদান দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আশা করি, সবার সহযোগিতা পেলে অচিরেই এই হাসপাতালের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যাবে।”

​সেবার এই উন্নতি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন একাধিক রোগী ও তাঁদের স্বজন। ​তাজুল ইসলাম (৫০), টেংরা গ্রামের বাসিন্দা, বহির্বিভাগের রোগী: “আগে ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে দালালদের টাকা দিতে হতো, আর খাবারের মানও ছিল খুবই খারাপ। এখন আর সেই ঝামেলা নেই। ডাক্তার সাহেব নিজে তদারকি করায় সব কিছু অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তিনি আসার পর সব কেমন যেন গুছিয়ে গেছে। প্রেসক্রিপশনও এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো করে লেখা হয়।”

​ফরিদা বেগম (৩২), তেলিহাটির বাসিন্দা, ভর্তি রোগীর স্বজন: “আমার মায়ের ভর্তির পর থেকে দেখছি, রান্না করা খাবারগুলো গরম এবং যথেষ্ট ভালো মানের। কর্মচারীরাও এখন অনেক বিনয়ী, সহজে সহযোগিতা করছে। আগে মনে হতো সরকারি হাসপাতাল মানেই ভোগান্তি, এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে।”

​ডাঃ শফিকুল ইসলামের ঐকান্তিক চেষ্টা ও স্থানীয় মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পথে চালিত করছে। আশা করা যায়, ছোটখাটো সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠে তাঁর নেতৃত্বে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অচিরেই জেলার অন্যতম সেরা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হবে।

আরো..