অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অন্তরীণ সরকার’ আখ্যা দিয়ে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন আদর্শিক বিরোধিতার জন্য তাকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। এতে নিজের জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ করে গেলেও ব্যক্তি আক্রমণ থামছে না বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে নিজের বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক এই উপদেষ্টা।
স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত জুলাইয়ের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি? না। কিন্তু, ব্যক্তি মাহফুজের বিরুদ্ধে হওয়া বিষোদগারের ৮০-৯০%ই জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লোকদের বিশেষ করে জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানদের করা। লীগ আক্রমণের টাইম আর স্পেসই খুঁজে পাচ্ছে না।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি লিখেন, ‘আর, তথ্য মন্ত্রণালয়ে ৯ মাসের জন্য জন্য আমি দোষী হলে আগে-পরের ৯ মাসের উপদেষ্টারা কেন দায়মুক্ত? তারা যদি সদিচ্চাবান হন, তাইলে মাহফুজ আলম গাদ্দার কেন?’
আদর্শিক জায়গা থেকে ‘জাশি-উগ্র ডানের’ রাজনৈতিক আদর্শের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘কিন্তু, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি কি শুধুই জামায়াত? ’৭১ কে অস্বীকারের/অবনমনের জাশির রাজনীতি নিয়ে যদি জামায়াতকে প্রশ্ন করা অপরাধ হয়, সে অপরাধে জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লিবারেল-বাম-সেকুলারদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দায়ী হতে বাধ্য। কিন্তু, সেরকম কিছু কি হয়েছে?’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আদর্শিক বিরোধিতার সূত্রে যদি আমি বিভাজনের জন্য দায়ী হই, তাহলে এ বিভাজন এবং জুলাইকে জাশির একচ্ছত্র বয়ানের খপ্পর থেকে বাঁচানোর চেষ্টার জন্য আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না। কিন্তু, আমি কখনই শাহবাগের ফ্যাসিবাদী জাশি-বিদ্বেষী চিন্তাকে এন্ডোর্স করি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেও আহ্বান জানিয়েছি, জুলাইয়ের পক্ষের সব শক্তিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষ থেকে বের হয়ে আসতে। পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করার বদলে একজন ব্যক্তিকে টানা প্রায় দুই বছর জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানপন্থিদের ব্যক্তি আক্রমণ কি ইঙ্গিত দেয়?’
গত এক বছরে ‘জাশি, এনসিপি কিংবা উগ্র ডানপন্থিদের’ নিয়ে তেমন কোনো বক্তব্যও দেননি উল্লেখ করে মাহফুজ আলম দাবি করেন, ‘অন্তরীণ সরকারের আমলে জাশি বিরোধিতার জন্য সরকারের ভেতরে কোণঠাসা করা হয়েছে। আমি নিজের জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ করে গেছি। কিন্তু, ব্যক্তি আক্রমণ ও গালিবাজির রাজনীতি কেন থামছে না?’
বর্তমানে কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই, সংসদ সদস্যও নন কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবেও সক্রিয় নন উল্লেখ করে মাহফুজ আলম প্রশ্ন তোলেন, ‘কিন্তু, এ জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানের নিশানা কেন ব্যক্তি মাহফুজ বারবার হচ্ছে?’
‘শিবিরের বট এবং অ্যাক্টিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন’ স্ট্যাটাসের শেষে এমন অভিযোগ তুলে মাহফুজ আলম লিখেন, ‘মৃত্যুকামনা করছেন। একবার প্রতীকী জবাইও করেছেন। হত্যাযোগ্য করার লেভেল অনেক আগেই পার করেছেন। এনসিপি-উগ্র ডানেরাও এরকমই বাসনা রাখে বলেও প্রতীয়মান হচ্ছে।’
‘জুলাই ধ্বংসের হোতা মাহফুজ আলম বলে আপনারা আমাকে অনেক শক্তিশালী বানাচ্ছেন’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ জুলাই এক ব্যক্তির খেলনা না যে, একজন ধ্বংস করে ফেলবে! আপনারা আসলে নিজেরাই এসব বক্তব্য দিয়ে জুলাইকে খেলো/হাস্যকর বানিয়ে ফেলছেন।’
এমন ব্যক্তি আক্রমণ, গালিগালাজ ও বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানের ব্যক্তি আক্রমণ বন্ধ হোক, এ কামনা করি। গালিবাজি আর ব্যক্তি আক্রমণ বাদ দিয়ে পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করে যেন আমরা একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেদিকে চলেন মনযোগ দিই।’