https://www.a1news24.com
২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:২০

ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: সেন্টকম

রয়টার্স: ইরানের বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় শনিবার এসব হামলা চালানো হয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের চলমান হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম আরও বলেছে, গতকাল ২০ লাখ ব্যারেল ক্রুড জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালায়। সেটি পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সেন্টকম ওই ভিডিওটি পোস্ট করে। তবে এটি কিছুটা ঝাপসা ছিল। আকাশ থেকে ধারণ করা হয়েছিল। ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার ।ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কেশম ও সিরিক এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছেে।

এর আগে শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। আরেকটি জাহাজে ইরানের হামলার পাল্টা জবাবে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশটি জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে স্মারকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একাধিকবার একে-অপরের বিরুদ্ধে এনেছে।

গতকাল হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার আগে বৃহস্পতিবার একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, শনিবার আক্রান্ত হওয়া ট্যাংকারটির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজটির নাবিকেরা সবাই নিরাপদে আছেন।

ওই হামলার পেছনে ইরান জড়িত কি না, তা সরাসরি জানায়নি তেহরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটি অনুমোদন দেয়নি, এমন একটি জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকটি জাহাজকে সতর্ক করতে ‘গুলি ছুড়েছে’ তারা। এর আগে শুক্রবারও সিরিক বন্দরের তাহেরুই ঘাট এলাকায় হামলা হয়েছিল বলে জানায় তেহরান।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে শত শত জাহাজ উপসাগরীয় এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তবে সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর জাহাজগুলো প্রণালিটি দিয়ে বের হওয়া শুরু করে। এতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়া কমতে শুরু করে তেলের দাম।

যুক্তরাষ্ট্র চায় জাহাজগুলো হরমুজের দক্ষিণ দিকে ওমান উপকূল দিয়ে চলাচল করুক। এটি নিয়ে ইরানের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তেহরানের চাওয়া হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর দিকের পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে। এতে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে জাহাজগুলো। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি গতকাল বলেই রেখেছিলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত যেসব নির্দেশনা ইরান দিয়েছে, সেগুলোর যেকোনো লঙ্ঘন কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

আরো..