https://www.a1news24.com
৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৪৮

শ্রীপুরের নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই ফাঁকা

ঢাকা-বিভাগের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প গাজীপুরে

টি.আই সানি,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরউপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে ৮.৯ একর সরকারী খাস জমি গড়ে তোলায় হয়েছে ঢাকা-বিভাগের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প। যার নাম দেয়া হয় “নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প”।

২০২৩ সালে ১৪২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়। ভূমিহীন, গৃহহীন বিধবা, প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, দিনমজুর ও বয়স্কসহ অসহায় পরিবার গুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে নির্মাণ করা হয় এসব ঘর। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। দুটি শয়ন কক্ষসহ প্রতিটি ঘরে রয়েছে বারান্দা, রান্নাঘর ও একটি করে টয়লেট।

বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচেনা করে পৃথক মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি রাখাহয়েছে ইন্টারনেট সুবিধাও। শুধুবসতঘর, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটইনয়, বাসিন্দাদের জীবন যাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে এখানে রাখাহয়েছে পুকুর, মসজিদ, স্কুলকামঅধ্যয়ন কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টারকামস্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, কবরস্থান, প্রশস্তসড়ক ও সোলার স্ট্রিট লাইট। সকলসুবিধা থাকার পরও ঢাকা-বিভাগের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা।

কিন্তু এত আয়োজনের পরও প্রকল্পের বর্তমান চিত্র হতাশার। সারিসারি ঘরের অনেক গুলোতেই ঝুলছে তালা। কোনো কোনো ঘরের সামনে আগাছা, কোথাও নেই নিয়মিত বসবাসের চিহ্ন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন দের সঠিক ভাবে বাছাই না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন বসবাস না করায় ঘরেলাগানো বিদ্যুতের মিটার বিল বকেয়া থাকার কারণে খুলে নেয়া হয়েছে।

এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্ধ পেয়েছেন একনারী। উদ্ভোধনের দিন তিনি এসেছিলেন, পরে আর কখনো তিনি আসেননি। বরাদ্ধ পাওয়া নারীর নামও ভুলে গিয়েছেন বাসিন্দারা। ওই ঘরে বসবাস করছেন আমেনা নামের এক নারী। তিনি জানান,সন্তানরা বড় হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া বসবাস করা কস্ট হচ্ছি। পাশেইবরাদ্ধ পাওয়া ঘরটিতে সব সময়ই তালা ঝুলতো। এতে ঘরের সামনে ময়লা আবর্জনা,লতা ও ঘাসজন্মাতো। পরেবরাদ্ধ পাওয়া নারীকে তিনি অনুরোধ করেন, ঘরটিতে যে তার সন্তানদের বসবাস করতে দেয়া হয়। পরে তার অনুরোধের পর তিনি রাজিহয়েছে। আমেনা জানান, যার নামে ঘরটি বরাদ্ধ হয়েছে তার বাড়ি আছে, ঘর আছে। তিনি স্বাবলম্বী মানুষ। এদের ঘর গুলোবরাদ্ধ বাতিল করে নতুনদের নামে ঘর বরাদ্দ দেয়ার দাবি তার।

এখানে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন সালমা বেগম। তিনি চাকুরি করেন প্রায় ২৫কিলোমিটার দুরে একটি গার্মেন্টস্ কারখানা। তিনি জানান, এখান থেকে গিয়ে চাকুরি করলে যা বেতন পাবো তাপুরোটাই খরচ হয়ে যাবে যাতায়াত ভাড়ায়। তাই কারখানার পাশে একটি বাসায় কক্ষভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। মাঝেমধ্যে এসে তিনি ঘরের পরিচর্যা করে যান।

২০২৩ সালেনয়া পাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন আজিজুল হক। বরাদ্দ পাওয়ার সময় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে উঠেছিল ঘরে। বর্তমানে দুই সন্তান সংসারী হয়েছেন। স্ত্রী, দুই সন্তানসহ তাদের দুই স্ত্রী নিয়ে ঘরের নাতী নিয়ে এক ঘরে বসবাস করছেন কোনমতে। জায়গা না হওয়ায় বড় সন্তান আশ্রয়ন প্রকল্পের বাইরে একটি বাড়ি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। তার দাবি জানান, যেসকল ঘর গুলোতে মানুষ জন বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্ধ বাতিলকরে ঘর গুলো যেন বড় সংসারের সদস্যদের মাঝে দেয়া হোক।

নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক নছুম উদ্দিন বলেন, ১৪২টি ঘরের মধ্যে ৫০ থেকে ৫৫জন বাসিন্দারা স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। বাকী ঘর গুলো সব সময় খালিই থাকে। অনেক ঘর উদ্ভোধনের সময় যে তাল াদিয়ে গিয়েছে তারা আর খোঁজ নিতেও আসেনি। এদের মধ্যে আবার বেশ কয়েকজন ২ থেকে ৩মাস পরপর আসেন, দেখভাল করে,বিদ্যুৎ বিল কাগজ নিয়ে আবার চলেযায়। অনেকের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মিটার খুলেনি য়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। অনেকের বাড়ির পানির মোটর, জানালা চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘর গুলো কেন খালি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, অনেকেই কাজে অজুহাতে আসছেন না আবার অনেকের বাড়ি ঘর আছে তাই আসছেন না। যারা স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন না তাদের বরাদ্দ বাতিল করেন তুনতা লিকা তৈরী করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা মো: নাহিদ ভুঞা বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনবাসিতরা কাজের প্রয়োজনে অন্য জায়গাতে চলে যাচ্ছে, নিয়মিত কর্মসংস্থান করতে না পারাসহ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত হয়েছে। আমাদের ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমিসহ কারীকর্মকর্তা যাচাই বাছাই করে। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন বসবাস করছে না এমন বিষয়টি আমাদের কমিটি আছে। সেই কমিটির কাছে উপস্থাপন করলে আমরা রিপ্লেস মেন্টকরে থাকি। আমরা নয়াপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি ও যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আরো..