টি.আই সানি,শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ি থেকে সিংড়াতলী অভিমুখী প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ও মাটিযুক্ত ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চললে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ক্ষয় দেখা দিতে পারে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে শ্রমিকরা দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ করছেন। এ সময় সড়কে ব্যবহারের জন্য রাখা খোয়ার মধ্যে নিম্নমানের ইটের খোয়া এবং মাটিযুক্ত ও পোড়ামাটিসদৃশ ইটের খোয়া দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও প্রথমদিকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাসান বলেন,খুবই নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি শুধু দেখছি বলেছেন। কিন্তু সরেজমিনে এসে কাজটি দেখেছেন বলে আমরা জানি না।
সাইদুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের রাস্তার কাজে যদি নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়,তাহলে এটি টেকসই হবে না। বর্ষা আসার আগেই রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে গেলে আবারও জনগণের টাকায় সংস্কার করতে হবে।
তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, এগুলো অটোব্রিকসের খোয়া। এগুলোর টেস্টের রেজাল্ট ভালো। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমি সাইটে লোক পাঠিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে,তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে গিয়ে নির্মাণকাজের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমেল বড়ুয়া বলেন,সকাল থেকে ৩/৪ কাজের ফাইলের মধ্যে কি কাজের ফাইল ও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমজাদ ট্রেডার্সের লোকজনকে কাজের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে মোবাইল ফোনে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে দেখব। পুরোনো রাস্তার রিকভার করা ১৫ লাখ টাকার (সেলভেজ) কিছু খোয়া ওপরে দেওয়াতে হয়তো স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সরে জমিনে গিয়ে দেখব।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যদি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে,তাহলে কাজের তদারকি কতটা যথাযথভাবে হয়েছে? তাদের দাবি, দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে সড়কের নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করতে হবে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা অপসারণ করে প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী টেকসই সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে।