https://www.a1news24.com
১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০৬

কাউনিয়ায় ভাঙা বাঁশের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় পারাপার, বিপাকে শিক্ষার্থী-গর্ভবতী নারী ও কৃষক

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকার পর সম্প্রতি সেতুটির একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে ওই এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্ষায় নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, “সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত সাঁকোটি সংস্কার করা এবং এখানে একটি পাকা সেতু নির্মান হলে আমাদের স্কুলে যাতায়তের আর সমস্যা থাকবে না।” আরেক শিক্ষার্থী সাইদুর বলেন, “বর্ষার সময় নদীতে পানি বেশি থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিক।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নদী পার হতে গিয়ে তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় নৌকায় বা ভাঙা সেতুর অংশ দিয়ে পারাপারের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিুুল বলেন, স্বাদীনতার পর থেকে আমরা বাঁশের সাঁকোয় যাতায়ত কওে আসছি, নতুন এমপি আকতার হোসেন কে পেয়ে ভেবে ছিলাম আমাদেও যাতায়তের জন্য এখানে একটি পাকা সেতু নির্মান কওে দিবেন, কিন্তু তার দৃশমান কোন কাজ দেখছি না। “সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ময়েজ মন্ডল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “এই বা*াশের সাঁকোটি শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাঁকোটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।”

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের চলাচলে যেন কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একটি পাকা সেতু নির্মান করে পারাপারের ব্যবস্থা করা।

আরো..