সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের শেষে রংপুরের শস্যভান্ডারখ্যাত কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। সোনালি ফসলের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই মাঠে নামছেন কৃষক-কৃষাণিরা। তাদের কর্মমুখরতায় পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছে এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন মৌসুমকে সামনে রেখে বিভিন্ন গ্রামের বীজতলা থেকে চারা তোলা, জমি চাষ, জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণি ও কৃষি শ্রমিকরা। কে কার আগে চারা রোপণ শেষ করতে পারবেন, তা নিয়ে চলছে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।
পশ্চিম নিজপাড়া গ্রামের কৃষক প্রহলাদ চন্দ্র জানান, বোরোসহ অন্যান্য ফসলের আবাদে সেচ, কীটনাশক, বীজ কেনাসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়। কিন্তু রোপা আমন চাষে সেচ খরচ তুলনামূলক কম, বৃষ্টির কারণে কীটনাশকেরও তেমন প্রয়োজন হয় না এবং নিড়ানি খরচও কম। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে রোপা আমন চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি।
গদাই গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে আগেভাগেই বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠে মাঠে কাদায় নেমে নিপুণ হাতে সারিবদ্ধভাবে চলছে ধান রোপণের কাজ। জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার পাশাপাশি রোপা আমন আবাদকে ঘিরে নানা কর্মযজ্ঞে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দিনমজুর শ্রমিকরাও বাড়তি উপার্জনের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এবার রাসায়নিক সারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা রয়েছে। এরপরও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে রোপা আমন আবাদ থেকে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কাউনিয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সালাউদ্দিন জানান, রোপা আমন চাষকে লাভজনক ও সফল করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।