জাতীয় সংসদের শব্দযন্ত্রের বিভ্রাট কাটিয়ে উঠতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপন করতে চায় সরকার। এজন্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ সভা কক্ষে সোমবার সকালের ওই বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বৈঠকে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, কার্যকারিতা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেখানে জাতীয় সংসদের বিদ্যমান সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সাউন্ড সিস্টেম, সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বিকল্প, কারিগরি সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনাও তুলে ধরা হয়।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথমবার বক্তব্য দিতে গিয়ে মাইক বিভ্রাটে পড়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সে সময় সময় তিনি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন, সেদিন তার হাতে একটি হ্যান্ডমাইক দেখা যায়।
শব্দযন্ত্রের বিভ্রাটের কারণে সংসদের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরদিনের বৈঠকেও হেডফোন ও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
এরপর ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে আবারও শব্দযন্ত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। সেদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তার নিজের শব্দযন্ত্রও কাজ করছিল না। পরে তা মেরামত ও নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়।
এরপর সংসদের শব্দযন্ত্রের সমস্যা ‘জটিল আকার’ ধারণ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
সাউন্ড সিস্টেম কেনা ও স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছিলেন, “ওই সময় একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল, তারা… শুনলে অবাক হবেন, একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সাউন্ডের ব্যাপারে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কী কাজে লাগতে পারে? এ কাজটা বুঝে নেবে এমন কোন লোক নিয়োগ করা হয়নি।”
চিফ হুইপের ভাষ্য, ৩৮ গ্রেডের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ২৫৮ গ্রেডের।
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার প্রকল্পে কম ব্যবধানে দরপত্র দেওয়া একটি কোম্পানি কাজ না পেলেও পরে সেই কোম্পানিকে দিয়েই কাজ করানো হয়েছে।
এছাড়া সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের ‘সাউন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম-এসআইএস’ পরিচালনা, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের’ অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।