https://www.a1news24.com
৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০১

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ৩ ট্রলার ডুবি-নিখোঁজ ১৩ জেলে, চলছে উদ্ধার অভিযান

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির,সুন্দরবন থেকে ফিরে:বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। বৈরী আবহাওয়া, ঝড়ো হাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সাগরে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর অস্বাভাবিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে। দফায় দফায় আঘাত হানা ঝড়ো হাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে তিনটি ট্রলার সম্পূর্ণ ডুবে যায়। পাশাপাশি আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, বুধবার দুপুরে চর বিজয় সংলগ্ন সাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে একটি ছোট মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি সাঁতরে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও তাঁর সঙ্গে থাকা পাঁচ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় ‘এফবি মহিমা’ নামের একটি ট্রলার উল্টে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করলেও বাকি দুই জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া গত রোববার গভীর সাগরে আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনো ছয় জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”

বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরো..