https://www.a1news24.com
৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:০৪

কাউখালীতে আলোচনায় ১৬ মণের ‘জমিদার’ দাম হাঁকা হচ্ছে ৫লাখ

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া এলাকার খামারি রফিকুলের খামারে বেড়ে ওঠা গরু নাম ‘জমিদার’। ওজন ১৬.১৩ মণ। রাজকীয় গড়ন আর বিশাল দেহের জন্যই খামারি রফিকুল ইসলাম বিশাল আকৃতির এই গরুর নাম রেখেছেন ‘জমিদার’।

সাদা কালো রঙের ষাঁড়টি উপজেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় বলে ধারণা করা হচ্ছে।ওজন ছয় শত পঞ্চাশ কেজি, অর্থাৎ ১৬ মণ এর একটু বেশি । দ্রুতই কোরবানির হাটে তোলা হবে বিশালদেহী এই গরুটি। তবে বাড়িতেই বসে গরুটি বিক্রি করতে চান রফিকুল। প্রতিদিনই গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন হরেকরকম মানুষ।

রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কোনো ধরনের কৃত্রিমমোটাতাজাকরণ না করে ঘাস, খৈল, ভুট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে ধীরে ধীরে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। কৃত্রিম ভাবে মোটাতাজা করলে এবং অতিরিক্ত খাবার দিলে ষাঁড়টির ওজন আরো অনেক বেশি হতো। তবে তাতে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত এবং ষাঁড়টি ঝিমিয়ে পড়ত। কিন্তু পরিমিত প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ার কারণেই জমিদার সুঠাম দেহের অধিকারী।

রফিকুল আরো জানান, আড়াই বছর আগে আমার খামারের একটি গাভীর পেটে তার গোয়ালঘরেই জন্মে ছিল জমিদার গরুটি। ষাঁড়টিকে আমি সন্তানের মতো যত্নে লালন-পালন করেছি। থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যান দেওয়া রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়েও বাতাস করতে হয় জমিদারকে।

বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি হাটে আনা-নেওয়া করা কষ্টকর, তাই বাড়ি থেকেই জমিদারকে বিক্রি করতে চান বলে উল্লেখ করেন রফিকুল ।তিনি বলেন খুব বেশি লাভের কথা ভাবছি না। সুলভ মূল্য হিসেবেই ষাঁড়টির দাম ৫ লাখ টাকা চাচ্ছি। এখন পর্যন্ত গরুটির মুল্যে ৪লাখ ৫ হাজার টাকা বলেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কাউখালীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭২৪টি খামার রয়েছে। এসব খামারে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সোমা সরকার বলেন, উপজেলার অনেক খামারিই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় আকারের পশু লালন-পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি বলেন, চিরাপাড়া গ্রামের রফিকুল এর গরুকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা ও পরিচর্যায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, গরুটি বিক্রি করে খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন।

আরো..