https://www.a1news24.com
১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৩৫

লবণাক্ত মাটিতে আঙ্গুর চাষে সফলতা পাইকগাছায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

আমিনুল ইসলাম বজলু, পাইকগাছা (খুলনা)ঃ উপকূলীয় অঞ্চল পাইকগাছার লবণাক্ত মাটিতে আঙ্গুর চাষ করে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা ও তায়্যেবা নার্সারির মালিক মোঃ তৈয়বুর রহমান। ভেলেজ, ইজিপসিয়ান রেড, বাইকুনুর ও বø্যাক ম্যাজিক জাতের আঙ্গুর চাষ করে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।

প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষে সফল হয়েছেন তৈয়বুর রহমান। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর আগে মাল্টা, স্কোয়াশ ও বার্লি চাষ করেও তিনি এলাকায় প্রশংসিত হন।

সরেজমিনে জানা যায়, গত বছর মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন তিনি। আশাতীত ফলন পাওয়ার পর চলতি বছর প্রায় সাত মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ঝুলছে। প্রতিটি থোকার ওজন প্রায় এক কেজি বা তারও বেশি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে এ ধরনের সফল আঙ্গুর চাষ সত্যিই বিস্ময়কর এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।

কৃষি উদ্যোক্তা তৈয়বুর রহমান জানান, কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই নতুন কিছু করার চিন্তা করেন তিনি। অনলাইন, ইউটিউব ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন।

তিনি বলেন, “প্রথমে নিজের মধ্যেও সংশয় ছিল যে উপকূলীয় এলাকায় আঙ্গুর হবে কিনা। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত পরামর্শের কারণে সফলতা পেয়েছি। এখন বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের কৃষক তহিদুল ইসলামও তিনটি ভিন্ন জাতের আঙ্গুর চাষ করে সফল হয়েছেন। তার বাগানেও প্রতিদিন স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে আঙ্গুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার নাহিদ মল্লিক জানান, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় আঙ্গুর চাষে সফলতা পাওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা করা যায়। এতে লবণাক্ততার ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেয়ে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হচ্ছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, “উপকূলীয় এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তৈয়বুর রহমান ও তহিদুল ইসলামরা প্রচলিত ধারণা বদলে দিচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও কৃষকদের এ ধরনের উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চমূল্যের ফসল চাষ স¤প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্নবাজ কৃষি উদ্যোক্তা তৈয়বুর রহমানরা।

আরো..