https://www.a1news24.com
২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৫৯

হারেননি একটা আসনেও, ২৩টি সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন খালেদা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস ও নির্বাচনী পরিসংখ্যানে একটি ব্যতিক্রমী রেকর্ডের নাম বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফেনী, বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খুলনাসহ যেসব আসনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন, সেখানেই তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দেশের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র নেতা, যিনি পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৩টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন। ভোটের মাঠে পরাজয়ের নজির তার রাজনৈতিক জীবনে নেই। এমনকি যেসব নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারেনি, সেসব নির্বাচনেও তিনি যেসব আসনে প্রার্থী ছিলেন, সবগুলোতেই ব্যক্তিগতভাবে বিজয়ী হন।

১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া-৭, ঢাকা-৫, ঢাকা-৯, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮; এই পাঁচ আসনে প্রার্থী হয়ে সবগুলোতেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী-১ ও ২, বগুড়া-৭, সিরাজগঞ্জ-২ ও রাজশাহী-২ আসনে নির্বাচিত হন এবং টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ওই নির্বাচনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাসের পর শপথ নেওয়ার ১১ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও খালেদা জিয়া বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ফেনী-১, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই জয়ী হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, খুলনা-২, ফেনী-১ ও লক্ষ্মীপুর-২; এই পাঁচ আসনে প্রার্থী হয়ে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন একজন প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নির্ধারণ করে। সে নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয়ী হন এবং তার অপরাজেয় রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখেন।

খালেদা জিয়ার এই নির্বাচনী সাফল্য সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার ‘আপসহীন’ ভাবমূর্তির কারণে দল-মত নির্বিশেষে তিনি গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার ধারণা থাকলেও সে সময় টেলিভিশনে খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য পরিস্থিতি বদলে দেয়। তার জনপ্রিয়তার কারণেই তিনি প্রতিবার সব আসনে জয়ী হয়েছেন। অধ্যাপক নাজনীন আরও বলেন, খালেদা জিয়া কখনো অসংযত ভাষায় কথা বলেননি। তার পরিমিত বক্তব্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আচরণ ভোটের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

আরো..