সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মিলিত কওমি ফোরামের উদ্যোগে কওমি কনফারেন্স ২০২৫।গতকাল বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এই কনফারেন্সে দেশের খ্যাতিমান উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ ও তরুণ আলেমরা অংশগ্রহণ করেন।
কনফারেন্সে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত কওমি ফোরামের সভাপতি মাওলানা আহমদ কবির খলিল এবং সঞ্চালনা করেন কবি মীম সুফিয়ান। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদীস হাবিবে রব্বানী। তিনি বলেন, “কওমি শিক্ষা মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়ের সাথে সম্পৃক্ত। এর ঐতিহ্য ও আদর্শ রক্ষা করা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব।”
প্রখ্যাত আলেম মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা ও আত্মগঠনই নেতৃত্বের প্রকৃত ভিত্তি। কওমি তরুণরা আত্মশুদ্ধি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবে।”
মাওলানা সালমান আহমদ ইসলামি মনোবিজ্ঞানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “এটি কেবল তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়, বরং সমাজ গঠন ও নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার অপরিহার্য একটি দিক।”
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী বলেন, “এই সম্পর্কই কওমি শিক্ষার প্রাণশক্তি, যা ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণা জোগায়।”
মুফতি রিদওয়ান হাসান শিক্ষা সংস্কারের প্রসঙ্গে বলেন, “সংস্কার সময়ের দাবি। তবে সংস্কার কোথায় এবং কতটুকু প্রয়োজন, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। মূল ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সংস্কার কার্যকর হতে হবে।”
আবেগঘন বক্তব্যে মাওলানা রুহুল আমীন সাদী বলেন, “কওমের জন্য কওমিয়ানদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণার উৎস। এই চেতনা নতুন প্রজন্মকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে।”
এছাড়াও কনফারেন্সে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন শায়খুল হাদিস আব্দুল বছির, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন আহমদ গহরপুরী, মাওলানা জয়নাল আবেদিন, শায়খুল হাদিস নজরুল ইসলাম কাসেমি, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, মুফতি মুজাহিদুল ইসলাম শ্রীমঙ্গলী, শায়খুল হাদিস এহতেশাম ক্বাসেমি, মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী, মাওলানা সা’দ আমিন হামিদী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা আব্দুল জলিল ফরিদী, মাওলানা আহমদ ছগীর, মুফতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা ফয়জুর রহমান, মাওলানা ফরহাদ আহমদ, মাওলানা ইমদাদুল হক নোমানী, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ প্রমুখ।
বক্তাগণ কওমি শিক্ষার ঐতিহ্য, এর সংস্কার ও আধুনিকায়ন, সমাজে এর অবদান, ইসলামি নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত উলামায়ে কেরাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। আলোচনা পর্ব শেষে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।বিজ্ঞপ্তি ।