https://www.a1news24.com
১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৫:৫৯

লালমনিরহাটে ঘন আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যয়

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মাঘের শুরুতেই শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত লালমনিরহাটসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলার মানুষের জীবন। বৃষ্টির মত পড়ছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল হাওয়া খেটে খাওয়া মানুষ বিপদে পড়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না। গ্রাম গুলোতে সাধারণ মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। অপরদিকে হাসপাতাল গুলোতে শীতজনিত রোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারী ) সকাল ৭টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ১১ টা পেরিয়ে গেলেও কিন্তু অত্র এলাকার সূর্যের মুখ দেখা মেলেনি।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়াবিদ সুবল চন্দ্র বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে আগামীতে মৃদু সত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

জানা গেছে,হিমালয় পাদদেশে অবস্থিত লালমনিরহাট জেলায় মাঘ মাসের শুরু থেকে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশায় আর হিমেল হাওয়ার শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আর মানুষ কষ্টের দিন যাপন করছে। রাস্তায় লোকজনের চলাচল একবারেই সীমিত। এমনকি ভর দুপুরেও সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করছে। নিতান্ত প্রয়োজন কিংবা জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষেরই কেবল দেখা মিলছে পথে-ঘাটে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া মানুষজন। অপর দিকে লালমনিরহাট সদরসহ পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিউমোনিয়া,শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা জনিত রোগের আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে চিকিৎসকাও চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেয়ে পড়ছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার দিনমজুর আমিনুর রহমান (বাংগড়) বলেন,পরিবার নিয়ে এই শীতে কষ্টে আছি। ইউনিয়ন পরিষদ গিয়েছিলাম কম্বলের জন্য। চেয়ারম্যান বলছে কম্বল নেই। আমরা অসহায় গরিব মানুষ যদি কম্বল না পাই তাহলে পাবেটা কে?

ভ্যান চালক মিনাজুল ইসলাম বলেন,যতই শীত আর কুয়াশা আসুক না কেন পেটের তাগিদে আমাদেরকে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হতেই হয়। ঠান্ডায় কেউ বের হয় না তাই যাত্রী পাচ্ছিনা।

হাতীবান্ধা প্রকল্প ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী বলেন,এই শীতে হাতীবান্ধা উপজেলায় ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রায় ৩ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আবারো বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে তত্ত্ববোধক ডক্টর মোকাদ্দেম বলেন,শীতজনিক রোগে বহির্বি বিভাগে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।

আরো..