https://www.a1news24.com
১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:৪৫

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই করছে বাংলাদেশ, ডব্লিউএইচও কী বলছে

রয়টার্স: বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। দুর্বল তথ্যব্যবস্থা, পর্যাপ্ত প্রচারের অভাব এবং টিকাদানে ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে প্রাণঘাতী এই রোগের প্রাদুর্ভাব কীভাবে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তার একটি সতর্কবার্তা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে হামের ২ লাখ ২ হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ২২ হাজার জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। চলতি বছরে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেশি।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগে ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ৯৪ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে হাম নিয়ন্ত্রণ করা কতটা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এই মাত্রার টিকাদান প্রয়োজন বলে মনে করে ডব্লিউএইচও। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছালেও ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যায়।
ডব্লিউএইচওর নথি পর্যালোচনা এবং এক ডজনের বেশি বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও নানা বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। দেশটির তথ্যব্যবস্থায় লাখ লাখ শিশুর হিসাব বাদ পড়েছে, প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল এবং পর্যাপ্তসংখ্যক অভিভাবকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। 

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব গ্লোবাল পাবলিক হেলথের অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচওর টিকা উপদেষ্টা মার্ক জিট বলেন, এটি প্রতিটি দেশের জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা।তিনি বলেন, টিকাদানের মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার চেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ।

মার্ক জিটের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপে প্রাদুর্ভাব থামবে। কিন্তু এর মধ্যে অনেকেই হামে আক্রান্ত হবেন, আর কেউ কেউ মারাও যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে বলেছিলেন, প্রাদুর্ভাব বন্ধ করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য অক্টোবরে পাঠানো আরও কিছু প্রশ্নের জবাব দেয়নি সরকার।

ছেলেকে দাফন করার পরই তারা এসেছিল
১৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষের দেশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর একটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট। সেখানে গত জুলাইয়ে টিকা না পাওয়া দুই বছরের শিশু আরমান হোসেনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারটি তাদের তিন চাকার অটোরিকশাটি বিক্রি করেছিল। আরমানের চার বছর বয়সী বোনও টিকা পায়নি, তবে সে বেঁচে যায়।

আরমানের বাবা ২৬ বছর বয়সী আমিন মিয়া বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে সময়মতো টিকা দেওয়ার জন্য কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আসেননি।তিনি বলেন, ছেলেকে দাফন করার পরই তারা এসেছিল।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি এক হাজার হাম আক্রান্তের মধ্যে দুই থেকে তিনজনের মৃত্যু হয়। তবে অপুষ্টির মতো বিভিন্ন কারণে দরিদ্র দেশগুলোতে এই রোগ আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

সিলেট অঞ্চলের ছাতক শহরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৩০ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি হুমায়ুন রশিদের নয় মাস বয়সী মেয়ে লাবিবা আক্তার গত জুনে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। শিশুটি টিকা পায়নি।

জরুরি কর্মসূচির আওতায় ওই বছরের এপ্রিল মাসে টিকা নেওয়ার বয়সসীমা নয় মাস থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছিল। ফলে লাবিবারও টিকা পাওয়ার সুযোগ ছিল।লাবিবার বাবা বলেন, আমাদের জানাতে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আসেননি।

গত মে মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন বলেছিলেন, জরুরি টিকাদান কর্মসূচির ফলে সংক্রমণের হটস্পটগুলোতে রোগীর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে এবং প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

কিন্তু সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৯৮ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। মে মাসের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। হাম হলে উচ্চ জ্বর, কাশি এবং শরীরে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও টিকা নিতে অনীহা বাড়ছে। বিশেষ করে ধনী দেশগুলোতে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মতো ব্যক্তিদের টিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নেওয়ার সুযোগ এবং এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবই বড় বাধা।

টিকাদানে একসময় সাফল্যের উদাহরণ ছিল বাংলাদেশ
সম্প্রতি পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের হিসাবে, ২০২৪ সালে হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ছিল ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ছিল ৯৩ শতাংশ। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর অল্পসংখ্যক শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

তবে একই বছর শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘটে যান, টিকা কেনার আদেশ দিতে দেরি হয় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত পরবর্তী ডোজ দেওয়ার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালে প্রথম ডোজ নেওয়ার হার কমে ৯০ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ৮৬ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশের চেয়ে এই হার কয়েক শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হামসহ বিভিন্ন রোগের টিকাদানসংক্রান্ত সরকারি তথ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

এতে বলা হয়, প্রাথমিক হিসাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় টিকা নেওয়া মানুষের সংখ্যা ১০০ শতাংশেরও বেশি দেখানো হয়েছিল। এতে টিকার ডোজের সংখ্যা অথবা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুল থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জরুরি কর্মসূচিতে বাদ পড়েছে লাখ লাখ শিশু
হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে বলেও মনে হয়েছিল।
এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পর নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে। সরকার জানায়, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী লক্ষ্যমাত্রার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কর্মসূচিটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

এর প্রমাণ মেলে জুন মাসে পরিচালিত আরেকটি নিয়মিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার তালিকায়। একই বয়সসীমার শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ওই তালিকায় হামের টিকাদান কর্মসূচির তুলনায় ৪০ লাখ বেশি শিশুর নাম ছিল।

১৪ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এখানে একটি ঘাটতি রয়েছে।

সে সময় হামে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়ছিল। হায়দার এর জন্য অভিভাবকদের টিকা নিয়ে অনীহা কিংবা শিশুদের অসুস্থতার কারণে টিকা নিতে না আসাকে দায়ী করেন। এ ছাড়া জরুরি কর্মসূচির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এপ্রিল ও আগস্টে সরকার, ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সহযোগী সংস্থার বৈঠকের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করেছে রয়টার্স। নথিগুলো আগে প্রকাশিত হয়নি। এসব নথিতে দেখা যায়, দ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু ঘাটতি থেকে যেতে পারে।

১৯ এপ্রিলের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে প্রচলিত চার দফা প্রস্তুতি যাচাইয়ের পরিবর্তে মাত্র এক দফা যাচাই করা হয়েছিল।

টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শীতলীকরণ যন্ত্র আছে কি না, কতসংখ্যক শিশুকে টিকা দিতে হবে—এ ধরনের বিষয় যাচাইয়ের অংশ ছিল এই প্রস্তুতি।বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এক দফা যাচাইয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ জেলা প্রস্তুত থাকলেও সব জেলা প্রস্তুত ছিল না।

সবচেয়ে দরিদ্র শিশুরাই ভুগছে
বাংলাদেশের হাম ও রুবেলা নির্মূলবিষয়ক জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান ও মহামারিবিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রস্তুতি যাচাই যথাযথভাবে না হলে প্রায়ই সবচেয়ে দরিদ্র এবং দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী শিশুরা টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মূল্যও দিতে হয় তাদেরই।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এপ্রিলের টিকাদান কর্মসূচি চার সপ্তাহের মধ্যে চালু করা হয়েছিল। তবে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে টিকাদান কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়া তাজুল ইসলাম আবদুল বারী বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির জন্য সাধারণত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করতে হয়।আগস্টের বৈঠকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়, পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে যারা টিকা পায়নি, তাদের অনুপাত কর্মসূচির আগে ৮২ শতাংশ এবং পরে ৮৫ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ জরুরি কর্মসূচির পরও এই অনুপাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এতে টিকাদানের ঘাটতি অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

এপ্রিল ও আগস্টের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চেয়ে রয়টার্স প্রশ্ন পাঠালেও ডব্লিউএইচও জবাব দেয়নি। তবে বাংলাদেশে সংস্থাটির উপপ্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল বলেন, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সহায়তা করতে ডব্লিউএইচও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, যাতে আবার এ ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।

সিলেটে সরকারি নথি অনুযায়ী, হামে ১৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে রয়টার্সের সাক্ষাৎকার নেওয়া ১৬টি পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবার জানিয়েছে, তাদের এলাকায় টিকা দেওয়ার জন্য কোনো স্বাস্থ্যকর্মীকে আসতে দেখেনি তারা। অন্তত ছয়টি পরিবার বলেছে, তাদের এলাকায় কোনো শিশু হামে মারা যাওয়ার পরই স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আগে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে নতুন কর্মসূচি শুরু করে সরকার।
এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে জন্য আমরা গ্রাম পর্যায়ে সবাইকে সম্পৃক্ত করব।

তবে প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন হয় না। অন্যদিকে, সরকারি তথ্য বলছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পদ শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এই বয়সী শিশুরা মোট হাম আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ।

এ ছাড়া ছয় মাস পর্যন্ত বয়সী শিশুদের শরীরে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এ বয়সী শিশুরা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেয়ে থাকে।

আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সেপ্টেম্বরে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া সিলেটের ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। রয়টার্সের প্রতিনিধিরা যেদিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন, সেদিন সেখানে ১৭৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

আরো..