বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়িকা শবনম। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সিনেমা থেকে দূরে। বলা যায়, একই সময়ে সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমার। সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে শবনমের বাসায় গিয়ে উপস্থিত হন পূর্ণিমা।
কলিং বেল চাপ দেওয়ার পর দরজা খুলেই যখন পূর্ণিমাকে দেখলেন শবনম, অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এরপর পূর্ণিমাকে তার পাশে বসিয়ে একটু একটু করে গল্পে মেতে ওঠেন তারা দুজন।
২৬ জানুয়ারি শবনমের বাসায় যান পূর্ণিমা। বিষয়টি শবনম অবগত ছিলেন না, এমনই জানিয়েছেন এই বিশেষ মুহূর্তের আয়োজক সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীন।
তিনি বলেন, পূর্ণিমাকে দেখেই চমকে উঠেন শবনম। স্নেহের পরশে বুকে টেনে নেন। এরপর গল্পে মেতে ওঠেন দুজনে। গল্প-আড্ডায় উঠে এসেছে দুজনের সিনেমা ও ব্যক্তিজীবনের অনেক না-বলা কথা।
এ প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘পূর্ণিমা ভীষণ লক্ষ্মী একটা মেয়ে। তার মিষ্টি হাসি, বিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। অবশ্যই তার অভিনয়ও আমার ভালো লাগে। হঠাৎ করেই আমার বাসায় তার উপস্থিতি আমাকে সত্যিই ভীষণ বিস্মিত করেছে। খুব ভালো লেগেছে পূর্ণিমার সঙ্গে গল্প করে, সময় কাটিয়ে। আমি তার জন্য সব সময়ই অনেক দোয়া করি।’
পূর্ণিমা বলেন, ‘বলা যায় এটা আমার একটা অপূর্ণতা যে আমি শবনম ম্যাডামের সঙ্গে একই সিনেমায় অভিনয় করতে পারিনি। তবে এটা আমার ভীষণ ভালো লাগা যে তিনি আমাকে খুব স্নেহ করেন, আদর করেন। তিনি আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেন, তার মতো এত বড় মাপের মানুষ, যাকে আমরা মহীরুহ বলি, সেই তিনি যখন আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেন, তখন আসলে কী বলবো বুঝে উঠতে পারি না। এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি।’
সর্বশেষ শবনমকে ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন মুক্তিপ্রাপ্ত কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। এরপর আর অভিনয়ে দেখা যায়নি তাকে। তবে ভালো গল্প হলে কাজের ইচ্ছা আছে তার। এমনটা জানিয়েছেন এ কিংবদন্তি।
এদিকে অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে আছেন পূর্ণিমা। এ নায়িকাকে সবশেষ অভিনয় করতে দেখা যায় ছটকু আহমেদের ‘আহা রে জীবন’ সিনেমায়। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ।