https://www.a1news24.com
৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৪

সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে উচ্ছেদের পরই ফের দোকান, নেপথ্যে কারা?

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কয়েকদিন পরই ফের দোকান বসানোর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্ছেদের পর আবার কীভাবে সেখানে দোকান বসানোর সুযোগ তৈরি হলো, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় ফুটপাত ও অস্থায়ী দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

গত ২৭ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ লেকের উত্তর পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। অভিযানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত খান উপস্থিত ছিলেন। উচ্ছেদের পর জায়গাটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি পুনরায় দখল ঠেকাতে সেখানে গাছও লাগানো হয়।

তবে উচ্ছেদের কয়েকদিন পরই ওই এলাকায় আবার দোকান বসানোর তৎপরতা দেখা যায়। নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়ের আশপাশে নতুন করে দোকান বসতে দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—উচ্ছেদের পর এত দ্রুত সেখানে দোকান বসানোর অনুমতি বা সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে?

এদিকে পুনরায় বাজার বসানোর বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মনিরুল ইসলাম রবি, এম এ হালিম জুয়েল, গাজী মনির ও রওশন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগাযোগের বিষয়টি নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। মনির ইসলাম রবি তাকে ডেকে এনেছে। আপনারা রবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

পরে মনিরুল ইসলাম রবির বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় পুনরায় দোকান বসানোর বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত খান ওই স্থানে দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছেন।

তবে ২৭ আগস্টের উচ্ছেদ অভিযানের পর এত দ্রুত নতুন করে দোকান বসানোর অনুমতি কীভাবে দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্ছেদের উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে জায়গাটি দখলমুক্ত রাখা। সে ক্ষেত্রে পুনরায় দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হলে তার প্রক্রিয়া ও শর্ত কী ছিল—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়ের জায়গা ভবিষ্যতে কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং সেখানে দোকান বসানোর অনুমতি থাকলে তা কোন নীতিমালার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে উচ্ছেদের পর ফের দোকান বসানো এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যোগাযোগের আলোচনা একই প্রশ্ন সামনে এনেছে—সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় বাজার বসানোর নেপথ্যে আসলে কারা?

প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ে ও লেকপাড়ের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান এবং অনুমতির বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পুনরায় দোকান বসানোর প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

আরো..