টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার চালের খালি বস্তা গোপনে পাচারের সময় একটি পিকআপ ভ্যান আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরের পর শ্রীপুর এল এস ডি (খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার) কার্যালয় পরিদর্শন করেন।
এর আগে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীপুর-বরমী সড়কের ঘুন্টিঘড় এলাকায় খালি বস্তাসহ পিকআপ ভ্যান আটক করে স্থানীয় জনতা। পিকআপ ভ্যান আটকের খবর পেয়ে খোলা বাজারে বিক্রয়ের (ওএমএস) স্থানীয় এক ডিলার ঘটনাস্থলে পৌছে বস্তুাগুলো তার দাবী করে স্থানীয় জনতার কাছ থেকে পিকআপ ভ্যান ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডিলারের সাথে সাংবাদিকেদর তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে ওই ডিলার স্বীকার করেন আমাকে একজন পাঠিয়েছে পিকআপ ভ্যান ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য। পরে পিকআপ ভ্যান আটক করা জনতার কাছে অনুরোধ করলে পিকআপ ভ্যানটি শ্রীপুর এল এস ডি অফিসে (খাদ্য গুদামে) নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে জনতা ওই ডিলারের কাছে পিকআপ ভ্যানটি দিয়ে দেয়। স্থানীয়রা দাবী করেন চালের খালি বস্তা ভর্তি পিকআপ ভ্যান খাদ্য গুদামে নিয়ে গেলেও ভিতরে প্রবেশ না করিয়ে দীর্ঘক্ষন বাহিরে রাখা ছিল। সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় বস্তা ভর্তি ওই পিকআপ ভ্যান ছালা (বস্তা) ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বরমীর মাইজপাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এতগুলো খালি বস্তা কিভাবে বাহিরে গেল এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান স্থানীয়রা।
পিকআপ ভ্যানের চালক জিয়াউল হক বলেন, বস্তাগুলো বরমীর মাইজপাড়া গ্রামের ছালা (বস্তা) ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, খাদ্য গুদামের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) এসব বস্তা বিক্রি করেছে।
ছালা (বস্তা) ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর স্বীকার করেন তিনি বস্তাগুলো শ্রীপুর এল এস ডি অফিস (খাদ্য গুদাম) থেকে চার হাজার ৬০০ বস্তা নিয়ে আসছেন। বস্তাগুলো খাদ্য গুদাম থেকে নিয়ে আসার কথা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে স্বীকার করায় স্থানীয় ওএমএস ডিলার উপস্থিত জনতার সামনে তাকে চড়-থাপ্পর মেরে লাঞ্চিত করেন।
শ্রীপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বস্তার বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। খাদ্য অধিদপ্তরে লাখ লাখ বস্ত বাজারে আছে। আজকে যে চাউলের বস্তাগুলো সকালে ডেলিভারি (বিতরণ) করেছি সেই বস্তাগুলো আর কোনদিন আমাদের কাছে ফেরত আসবে না। এসব বস্তাগুলোর মধ্যে আগামীকাল কেউ চাউল, আটা, গম ঢুকাতে পারে এবং কেউ হলুদ ঢুকাতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমি রাঙ্গামাটিতে দেখেছি খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তাতে হলুদ, নারিকেল এবং সুপারি। পিকআপ ভ্যানের চালক জিয়াউল হক স্বীকার করেন বস্তাগুলো খাদ্য গুদামের ম্যানেজারের কাছ থেকে নিয়ে আসে এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমাদের এখান থেকে খালি বস্তা বের হওয়ার কোন নিয়ম নেই।
শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন সরকার বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে খালি বস্তা কিভাবে বাইরে গেছে তা আমার জানা নেই। শ্রীপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসিএলএসডি) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বস্তাসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। খাদ্য পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শফি আফজালুল আলম বলেন, গাজীপুর সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নাইয়া নূরকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদনস্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্যরা হলেন খাদ্য পরিদর্শক (কারিগরি) সোহেল আহমেদ এবং কাপাসিয়া উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মহিবুর রহমান।
তদন্ত কমিটির প্রধান নাইয়া নূরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় এসব বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।