সালেহ আহমদ (স’লিপক):
মৌলভবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই, ডিবিএ, ডিলিট সম্মানীয় কাউন্সিলর জেনারেল অব বাংলাদেশ, স্কটল্যান্ড। তিনি একই সাথে চেয়ারম্যান অব ইউরোপ বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ইবিএফসিআই)।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে তাঁদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় হাসপাতাল কমিটি। শমশেরনগর হাসপাতাল দাতা সদস্য আইনজীবী স্কটল্যান্ড প্রবাসী ব্যবসায়ী মিয়া মোস্তফাকে সাথে নিয়ে ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন শমশেরনগর হাসপাতালে আসেন। এসময় তাদের সাথে ছিলেন গ্রেটার ইংল্যান্ড লেবার পার্টি সেক্রেটারি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ বাশার ও ওয়ালী তছর উদ্দিনের নাতি হাফেজ নাজমুল ইসলাম।
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পরিচালক ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন হাসপাতাল পরিদর্শনকালে নিচতলার আউটডোর কার্যক্রম, চিকিৎসা সেবা, ব্যবস্থাপনা, ডায়াগনস্টিক বিভাগ ও দোতলার আলহাজ্ব ফজলুল হক ফ্লোর ঘুরে দেখেন। তাছাড়া তিনি পুরো হাসপাতাল উদ্যান ও নির্মাণাধীন শমশেরনগর হাসপাতাল আলেয়া জামান মসজিদ পরিদর্শন করেন।
পরে হাসপাতাল কমিটির নির্বাহী সহ-সভাপতি সাংবাদিক মুজিবুর রহমান রঞ্জুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে পরিচালনা পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা শমশেরনগরে অলাভজনক একটি হাসপাতাল পরিচালনা করা অনেক সাহসের ব্যাপার। আপনাদের সাথে প্রবাসীরা আছেন আমিও আছি। আপনাদের ব্যবস্থাপনায় আমি মুগ্ধ। আমি দেশে বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত। সে হিসেবে সরকারী ও বেসরকারিভাবে শমশেরনগর হাসপাতালে সার্বিক সহায়তা করা যায় সে চিন্তায় এখন থেকে কাজ করব।
সৈয়দ বাশার তাঁর বক্তব্যে বলেন, শমশেরনগর হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচালনা দেখে তিনি মুগ্ধ। তিনি আবারও বন্ধু-বান্ধব বিশেষ করে ব্যবসায়ী বন্ধুদের নিয়ে শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন তহবিলে সহায়তা করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মিয়া মোস্তফা বলেন, মামা ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন তাঁর সকল প্রতিষ্ঠানকে শমশেরনগর হাসপাতালের সাথে যুক্ত করলে শমশেরনগর হাসপাতালের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
এসময় শমশেরনগর হাসপাতাল কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সহিদ, সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম, মিডিয়া ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক (বাংলাদেশ/অভ্যন্তরীন) কবি সালেহ আহমদ (স’লিপক) সহ হাসপাতাল কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, কর্মরত চিকিৎসকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী আগতরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, তখন সবেমাত্র শমশেরনগর হাসপাতালের আলাপ আলোচনা চলছে। দৃশ্যমান কাজ তেমন একটা হয়নি। সম্ভবত মাটি ভরাটের কাজ চলছিল। প্রস্তাবিত হাসপাতালের ভূমির রেজিষ্ট্রেশন কাজও সম্পন্ন হয়নি। এমনি এক সময়ে শমশেরনগর হাসপাতালের ভিত্তি তৈরির কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে চার/পাঁচজন মানুষ আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন এমবিই, জেপি হচ্ছেন তাঁদের-ই একজন।
শমশেরনগর হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটির তৎকালীন প্রথম যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি কবি ও গবেষক ড. সৈয়দ মাসুম তখন ড. ওয়ালী তছর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করেন। ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর হাসপাতাল কমিটি ড. তছর উদ্দিনের সাথে এক ভার্চ্যুয়াল
আলোচনায় মিলিত হয়। কন্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনায় যুক্ত ছিলেন মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুস সালাম, ডাক্তার কামাল আহমেদ, কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সাইফুর রহমান কামরান, ময়নুল ইসলাম খান, মুজিবুর রহমান রঞ্জু, ড. সৈয়দ মাসুম, সৈয়দ সোহেল আহমেদ, শওকত চৌধুরী, শামছুল হক মিন্টু প্রমুখ।
উক্ত ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ের মাসখানেক পর দেশে যাবার সময় ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন ড. সৈয়দ মাসুমের সাথে ফোনালাপে হাসপাতাল ভিজিটের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ড. সৈয়দ মাসুম ওই সময় তৎকালীন সদস্য সচিব শামছুল হক মিন্টুকেও সংযুক্ত করেন। ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন তাঁদের দু’জনকে শমশেরনগর হাসপাতালের জন্য তাঁর টেলিফোন ও মানিব্যাগ চব্বিশ ঘন্টা উম্মুক্ত থাকবে বলে জানান। তিনি (ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন) সিলেট উইমেন্স হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সহ পুরো টিম নিয়ে শমশেরনগর হাসপাতাল ভিজিট করবেন বলে তাদেরকে অবহিত করেন। উল্লেখ্য যে, সেই সময় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ড. ওয়ালী তছর উদ্দিন। পারে অজ্ঞাত কোন এক কারণে ড. ওয়ালী তছর উদ্দিনের শমশেরনগর হাসপাতাল পরিদর্শন করা আর হয়নি। হয়তো হাসপাতাল কমিটির কোন ভুলের কারণে তিনি মনক্ষুন্ন হন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছেন। হাসপাতাল কমিটি আনন্দিত। শমশেরনগর হাসপাতালকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁর মত মানুষের প্রয়োজন। অসংখ্য মানবতা সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কারিগর এই মহামানুষটি শমশেরনগর হাসপাতালেরও মহা কারিগর হবেন বলে হাসপাতাল কমিটি আশা করছে।