https://www.a1news24.com
১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ১:২৬

রিয়াদে হামলার সতর্কতা জারির পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

এএফপি: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আজ শনিবার ভোররাতে (শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটা) একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির পরপরই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। তবে গত জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর এ প্রথম সৌদি আরবের রাজধানী সরাসরি কোনো হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো।

গতকাল দিবাগত রাত তিনটার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, পুরো এলাকা এখন শত্রুদের বিমান/ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে আছে। এ অবস্থায় নাগরিকদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পরই এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর হামলার ঝুঁকি কমে যাওয়ায় জরুরি সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করা হয়।

ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা আগে থেকেই হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। চলতি মাসে লোহিত সাগরের ইয়েমেন উপকূলের পুরো অংশ নিজেদের দখলে নিতে আকস্মিক অভিযান শুরু করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতে চলে গেছে।

ইরান পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেল রপ্তানি সচল রাখতে বাব-আল মানদেব ব্যবহার করছিল। তবে হুতিরা এখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করায় তেল রপ্তানিতে আরও বিপাকে পড়েছে দেশটি।

সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অবশ্য গত সপ্তাহেও তেল নিয়ে পাঁচটি জাহাজ এ জলপথ অতিক্রম করেছে।

হুতি বিদ্রোহীরা বারবারই দাবি করে আসছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য সব দেশের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য আন্তর্জাতিক ওই জলসীমা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

এদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ইতিমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় তিন হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরো..